ঢাকার নবাবগঞ্জের মাঝির কান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রবিবার সারাদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালের পর থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় আনন্দঘন পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্কুল চত্বর। অনুষ্ঠানটি দেখতে আশপাশের স্থানীয়রাও ভিড় করেন।
কচি-কাঁচার মেলার নবাবগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আয়োজক শুভাশিস গোস্বামী বলেন, “মানসিকভাবে সুস্থভাবে শিশুদের বেড়ে উঠাতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। গল্প, আড্ডা ও উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতার বীজ বপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য—যে মূল্যবোধ আজ সমাজে অনুপস্থিত, তা যেন ভবিষ্যতে হারিয়ে না যায়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উন্নতি রানী সরকার ডিএন বাংলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে আমরা একটি গঠনমূলক ও সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে পারব।”
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী ও উপস্থাপক ইহসান আননূর। তিনি বলেন, “পিকাসো বলেছিলেন ‘প্রতিটি শিশুই একজন শিল্পী’। আজ যেভাবে শিশুরা তাদের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই আগামী দিনের সম্ভাবনা।” পরবর্তীতে ইছামতী নদীর দূষণ রোধে তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমাদের নদীগুলো রক্ষার দায়িত্বও আমাদেরই নিতে হবে। আজকের শিশুদের ইতিবাচক শিল্প চর্চার প্রয়োজনীতা বুঝাতে পারলে তারা আগামীর সম্পদ ও সুনাগরিক হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সামাজিক কাজগুলো করবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক মিনারা বেগম, ফাহমিদা আক্তার, সুদীপ্ত চক্রবর্তী, লাভলু আহমেদ ও শ্রাবণী রানী ধর প্রমুখ। মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে শান্তনা পুরস্কার তুলে দেন শুভাশিস গোস্বামী, শিল্পী ইহসান আননূর, ডিএন বাংলার সিইও মোঃ সুমনসহ বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ।