ঢাকার দোহারে বিএনপির এক নেতাকে ফিল্মি স্টাইলে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা। বুধবার সকাল আনুমানিক ৬ টা দশ মিনিটে বাহ্রাঘাট জাবেদ এর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে প্রতিদিনের মত পদ্মা নদীর পার দিয়ে হাটছিলেন নয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমান আহবায়ক কমিটির উপদেষ্টা এবং বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হারুন মাস্টার। হঠাৎ করে দুটি মটরসাইকেলে চারজন যুবক তাকে এলোপাথারি কুপিয়ে ও চার রাউন্ড গুলি করে চলে যায়। এর পর স্থানীয়রা ছুটে এসে হারুন মাস্টারকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নুসরাত তারিন (তন্নি) তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
হারুন মাস্টারের মৃত্যুর খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মী, ও রাজনৈতিক নৃতৃবৃন্দরা হাসপাতালে ছুটে আসেন।
এ ঘটনার পর নয়বাড়ির বাহ্রা ঘাট এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
হারুন -অর রশীদ মাস্টার দীর্ঘ ধরে বিএনপির রাজনীতি করেন। এছাড়া শিক্ষকতা পেশায় তিনি বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আর ১৭ দিন পরে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।
তবে কি কারনে এ হত্যা কান্ড তা আপাতত কেউ মুখ খুলছেনা। স্থানীয় মো: ওয়াসিম নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি একটি ফোনে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে জান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান হারুন মাস্টারের নিথর দেহ পরে আছে। এর পর তিনি বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে বিষয়টি অবগত করেন।
এ বিষয়ে দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মো: হাসান জানান, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়েছি। প্রাথমিক সুরথাল করে জানতে পেরেছি তার চারটি গুলি ও ৫/৬ টি ধারালো অস্ত্রের কোপ পেয়েছি। বাকিটা ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে।
এদিকে বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ মাস্টারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মাঠে নেমেছে পুলিশ, র ্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা জয়পাড়া সরকারি হাসপাতালের সামনে সম্মিলিত হয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছে। বিক্ষোভ মিড়ছিল জয়পাড়া সরকারি হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে জয়পাড়ার বিভিন্ন গুরুত্বপৃর্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। রাজনৈতিক কারনে এ হত্যাকান্ড হতে পারে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।