পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নবাবগঞ্জের বান্দুরায় আইন শৃংখলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর কে সামনে রেখে গতকাল সোমবার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা বাজারে ৭নং বান্দুরা ইউনিয়ন বিট পুলিশ ও নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ আয়োজিত আইন শৃংখলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছিলেন দোহার সার্কেল এএসপি মো.আশরাফুল আলম, দোহার সার্কেল,ঢাকা।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ, পিপিএম,অফিসার ইনচার্জ, নবাবগঞ্জ থানা, বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু সুকুমার হালদারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ,স্বর্ণ ব্যবসায়ী,ব্যাংকার,আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাস/অটোরিকশা/সিএনজি
মালিক,চালক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী,জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসময় নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও সার্কেল এএসপি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করতে সমস্যা সমূহ সকলের সহায়তায় সমাধান করারও আশ্বাস দেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার,দোহার সার্কেল,ঢাকা মো. আশরাফুল আলম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, তিনি জানান জনগণের জানমাল ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ।
এজন্য তিনি সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এসময় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন-বান্দুরায় রোজা ও ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।
এজন্য বাজার কমিটি ও ইউনিয়ন পরিষদ কেও এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণে সকল যান বাহন চালক ও যাত্রীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
কেনাকাটা ও যাত্রাপথে অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কোন কিছু খাবার খাওয়া যাবে না। কোন সন্দেহজনক ব্যক্তি বা আচরণ পরিলক্ষিত হলে সাথে সাথে পুলিশকে অবগত করতে হবে। যে কোন বড় ধরনের অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ পরিবহনের পূর্বে পুলিশের সহায়তা নিতে হবে।
সকল ধরনের প্রতারক চক্র,অজ্ঞান পার্টি,মলম পার্টির বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। এদের দমনে সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশের টিম মোতায়েন থাকবে। যে কোন অপরাধের তথ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশকে দিতে হবে।
পবিত্র রমজানে অতিরিক্ত পণ্য মজুদ করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না। পণ্যে ভেজাল, বিশেষ করে ইফতার সহ খাদ্য সামগ্রী স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে প্রস্তুত ও বিক্রয় করতে হবে। কোন ব্যত্যয় হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদকের বিষয়ে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি আছে। যে বা যারাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকুক না তথ্য ও প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে খুব শীঘ্রই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সিএনজি বা অটোরিকশায় অপরিচিত যাত্রী কে নিয়ে দূরে বা নির্জন পথে ভাড়ায় যাওয়া যাবে না। যেতে হলে যাত্রীদের নাম পরিচয় গন্তব্য নিকটাত্মীয় ও পুলিশকে জানাতে হবে।
গভীর রাতে উচ্চ স্বরে মিউজিক বা সাউন্ড বাজানো যাবে না,এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে হবে। কোন ভাবেই কোন গুজবে কান দেয়া যাবে না। কোন অভিযোগ থাকলে দ্রুত থানায় জানাতে হবে। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরিশেষে প্রধান অতিথি দোহার সার্কেলের এএসপি তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। এরপর বান্দুরা বাজারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন ও নিরাপত্তা বিধানে বাজার কমিটি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দেন।