মোটর ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে কলকাতায় মিছিল ও পরিবহন ভবন অভিযান করেছেন মোটর ভ্যানচালকরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার (এআইইউটিইউসি) অনুমোদিত সারা বাংলা মোটর ভ্যান চালক ইউনিয়নের ডাকে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচি উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোটর ভ্যানচালকরা শিয়ালদা স্টেশনে জমায়েত হন। পরে দুপুর ১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে পরিবহন ভবনের উদ্দেশে রওনা হন তারা। মিছিলে কয়েক হাজার মোটর ভ্যানচালক অংশ নেন বলে আয়োজকদের দাবি।
মিছিলটি এসএন ব্যানার্জি রোড হয়ে ধর্মতলা ডোরিনা ক্রসিং অতিক্রম করে রানি রাসমণি রোডের দিকে গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা সেখানেই বক্তব্য দেন এবং একটি প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন দিতে যায়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের কাছে তাদের দাবিসংবলিত ডেপুটেশন দেবে। দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তারা।
মিছিল চলাকালে ধর্মতলা এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মিছিলের দুই পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল শুরু করলে চালকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, তুলনামূলক কম ভাড়ায় কৃষক, সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে মোটর ভ্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই যানবাহনের ওপর নির্ভর করে কয়েক হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে বলেও দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, মোটর ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনিক হয়রানির কারণে চালকরা আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মুখে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাইওয়ে থেকে মোটর ভ্যান, টোটোসহ তিন চাকার যান সরিয়ে দেওয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেও চালকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এআইইউটিইউসির সভাপতি অশোক দাস, সম্পাদক জয়ন্ত সাহা, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তপন মুখার্জি, তপন দাস, শ্যামল বাগ, আবুল শরীফসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো
- মোটর ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
- মোটর ভ্যানচালকদের ওপর প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
- যানজট নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত সার্ভিস রোডের ব্যবস্থা করতে হবে।
- মোটর ভ্যানের স্থায়ী লাইসেন্স দিতে হবে।
- মোটর ভ্যানচালকদের পরিবহন শ্রমিকের মর্যাদা দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে।
- মোটর ভ্যানচালকদের দুর্ঘটনাজনিত বীমা প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে।
- মোটর ভ্যানচালকদের ট্যাক্সমুক্ত ডিজেল সরবরাহ করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা জানান, এসব দাবিতে পরিবহনমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
