ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মৌলভীডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ রবিবার (২১ জুন) সকাল ১০টায় এক ব্যতিক্রমী উৎসবমুখর পরিবেশে সেজে ওঠে। মৌসুমি নানা ফলের সুগন্ধে পুরো শ্রেণিকক্ষ ও অনুষ্ঠানস্থল এক আনন্দঘন পরিবেশে পরিণত হয়। রঙিন বেলুন ও সাজসজ্জায় শিশুদের জন্য তৈরি হয় আকর্ষণীয় পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান। তিনি শিশুদের বিভিন্ন ফলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন।
তিনি বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিশুবান্ধব, শিক্ষণীয় এবং অনুকরণীয়। শিশুদের আনন্দ ও মানসিক বিকাশে এমন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তিনি প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিশুতোষ এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “শিশুদের বিনোদন থেমে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে এর আগেও কচি-কাঁচার মেলার মতো সংগঠন শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেছে। আজকের এই আয়োজনও আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।” তিনি অভিভাবকদের অব্যাহত আগ্রহ ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শুভাশিস গোস্বামী। তিনি বলেন, “শিশুরাই আমাদের হৃদয়। তাদের কখনো বঞ্চিত করা উচিত নয়। এখনই সময় তাদেরকে ভালো কিছু শেখানোর।”
অনুষ্ঠানে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান শিশুদের মধ্যে ফল পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পরে প্রধান শিক্ষক ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষকরা শিশুদের মৌসুমি ফল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।
এ সময় কচি-কাঁচার মেলার সদস্য এবং ইমু থ্রটস-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ ইমু ও অনিক হোসেন আবির উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শিশুদের আনন্দঘন মুহূর্ত ও উচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দিনের শেষভাগে শিশুদের হাসি-আনন্দে ভরা পরিবেশে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে, যা উপস্থিত সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকে।