ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে দেশের জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। রমজানজুড়ে পর্যটক কম থাকলেও ঈদের সময় লাখো মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠবে এই এলাকা—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সুবিধাও। একই সঙ্গে সৈকতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন জিরো পয়েন্ট, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও আশপাশের অন্যান্য স্পটগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা গেছে, কুয়াকাটায় ২২০টির বেশি আবাসিক হোটেলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা লাখ ছাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক হোটেলের কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। বাড়তি চাপ সামলাতে সৈকতের পাশের বাসাবাড়িতেও থাকার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যদিও পরিবহন ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকায় সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বেড়েছে। বালুচরে গাছপালা, ফুল এবং লাল কাঁকড়ার চলাফেরা পরিবেশকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। সমুদ্রের ঢেউ ও জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্যও পর্যটকদের টানবে।
নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউট সদস্য ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পর্যটকদের সহায়তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না হয়।
সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এবারের ঈদে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।