ঢাকাFriday , 7 November 2025
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

চিরস্থায়ী আনন্দের ঠিকানা—জান্নাত

Link Copied!

মানুষের জীবন এক দীর্ঘ যাত্রা, যেখানে সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা ও নানা অভিজ্ঞতা জড়িয়ে থাকে। কখনো জীবনের পথে আসে প্রাচুর্য, আবার কখনো নেমে আসে অভাব ও ক্লান্তি। বয়সের পরিবর্তন, দেহের ক্ষয় ও মানসিক অবসাদ ধীরে ধীরে জীবনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।

#New_Classic_Event_Management

এই সীমিত পৃথিবীর জীবনে তাই কখনো হতাশার ঢেউ আছড়ে পড়ে, আবার কখনো শান্তি ও প্রাপ্তির আনন্দে মন ভরে ওঠে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি—একটি জীবন কি সম্ভব, যেখানে নেই দুঃখ, নেই ক্লান্তি, নেই মৃত্যুর ছায়া?
উত্তর হলো—হ্যাঁ, এমন জীবন আছে। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই চিরস্থায়ী সুখময় জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জান্নাতের মাধ্যমে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে সর্বদা আরামে থাকবে; কখনো কষ্ট ভোগ করবে না। তার পোশাক কখনো পুরনো হবে না, আর তার যৌবন কখনো নষ্ট হবে না।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৬)


জান্নাত এমন এক পরম আবাস যেখানে সময়ের সীমাবদ্ধতা নেই। পৃথিবীতে বয়সের ভারে মানুষ ক্লান্ত হয়, রূপ ম্লান হয়ে যায়, শক্তি নিঃশেষ হয়—কিন্তু জান্নাতে থাকবে চিরযৌবনের উজ্জ্বলতা, অশেষ শক্তি ও অবিরাম আনন্দ।

“তার পোশাক কখনো পুরনো হবে না”—এই কথাটি এক গভীর সত্য প্রকাশ করে। পৃথিবীর পোশাক যতই সুন্দর হোক, তা একসময় জীর্ণ হয়। কিন্তু জান্নাতে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে সৌন্দর্য হবে চিরস্থায়ী, অক্ষয় ও অপরিবর্তনীয়। একইভাবে “তার যৌবন কখনো শেষ হবে না”—এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, জান্নাতে বার্ধক্য, অবসাদ কিংবা ক্ষয় বলে কিছু থাকবে না। সবাই থাকবে তরুণ, দীপ্তিময় ও পরিপূর্ণ শক্তিতে ভরপুর।

জান্নাত শুধু আরাম বা সৌন্দর্যের স্থান নয়; এটি এমন এক জগৎ, যেখানে থাকবে শান্তি, প্রশান্তি ও নিখুঁত আনন্দের সমাহার। সেখানে মানুষের অন্তর ভরে উঠবে পরিতৃপ্তিতে, চাহনি জ্বলে উঠবে দীপ্তিতে, আর মন ভরে যাবে প্রশান্তিতে। পৃথিবীর সাময়িক সুখের তুলনায় জান্নাতের সুখ হবে চিরন্তন ও অবিনশ্বর।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই পরহেজগাররা থাকবে নিরাপদ স্থানে, উদ্যানসমূহে ও প্রস্রবণসমূহে।”
(সুরা আদ-দুখান, আয়াত: ৫১–৫২)

এই আয়াত জানিয়ে দেয়—জান্নাতে প্রতিটি মুহূর্ত হবে নিরাপত্তা, সুখ ও পরিপূর্ণতার প্রতীক।

এই হাদিস ও আয়াত আমাদের পার্থিব জীবনের পথপ্রদর্শক। পৃথিবীর দুঃখ-কষ্টের মাঝেও ঈমান, ধৈর্য ও সৎকর্মের মাধ্যমে আমরা জান্নাতের আলোর ঝলক অনুভব করতে পারি। চিরস্থায়ী সুখের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে এখন থেকেই নৈতিক জীবন, সৎ আমল ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরতে হবে।

শেষে আমাদের প্রার্থনা—
“হে আল্লাহ, আমাদের জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী করো; আমাদের পোশাক পুরনো হতে দিও না, আমাদের যৌবন ক্ষয় হতে দিও না।”

জান্নাতের জীবন হবে অবিরাম আনন্দ ও শান্তির উৎস। সেখানে থাকবে চিরনবীন প্রভাতের মতো এক অনন্ত উজ্জ্বলতা, যার কোনো সমাপ্তি নেই। সেই চিরসুখের পথে আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলাই হোক আমাদের লক্ষ্য ও সাধনা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি