অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হলো সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘ সময় ধরে যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসের আশায় অপেক্ষা ছিল, আজ শনিবার (৩ মে) সেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। খিলগাঁওয়ের দাসেরকান্দিতে অবস্থিত স্থায়ী ক্যাম্পাসে আজ একটি বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধি, এসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, উপদেষ্টা পরিষদ, উপাচার্য প্রফেসর শামীম আরা হাসান, ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপাচার্য প্রফেসর শামীম আরা হাসান এ উপলক্ষে বলেন, “আমার নিজের জন্য কোনো চাওয়া নেই। শুধু চাই, আমার শিক্ষার্থীরা যেন একটি সুন্দর পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষালাভ করতে পারে।” তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসের রাস্তা এখনো পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী না হলেও, ইউজিসির সহায়তায় দ্রুত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে। আপাতত চারটি বিভাগের ক্লাস শুরু হলেও ধাপে ধাপে সব বিভাগের কার্যক্রম চালু করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ক্যাম্পাস উদ্বোধন ঘিরে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ ও আবেগ। জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো তানভীর বলেন, “এই খবরে আমরা খুবই আনন্দিত। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, এমন এক মনোরম পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া সত্যিই আশীর্বাদস্বরূপ।”
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বলেন, “অনেকদিন ধরেই আমরা এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। স্থায়ী ক্যাম্পাসের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আমাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অন্যদিকে, সদ্য সিএসসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হলো কিছুদিন আগেই। এতদিন ধরে স্বপ্ন দেখা স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের সময় শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত থাকতে না পারাটা দুঃখজনক। তবে আশা করি, নতুন প্রজন্ম এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়টির এই নতুন অধ্যায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সকলের জন্যই এক নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষার মান উন্নয়নেই নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ শিক্ষাগত পরিবেশ তৈরির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে।