৩ বছর ৮ মাস পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে হরতাল ডেকেছে বিএনপি-জামায়াত। হরতালে ঢাকার বেশিরভাগ সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল তেমন চোখে পড়েনি। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ও লোক চলাচলও কম।
রবিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কমবেশি এমন চিত্রই দেখা গেছে।
শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে দিনভর উত্তাপ, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মধ্যে ঘোষণা আসে এই হরতালের। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে হরতালের ঘোষণা দেন। এর পরপরই কার্যত সমাবেশের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এর পরপর বিনা অনুমতিতে রাজধানীতে সমাবেশ করার সুযোগ পাওয়া জামায়াতে ইসলামী পুলিশকে ধন্যবাদ দিলেও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং পুরোনো জোটসঙ্গী বিএনপির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে রবিবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে।
পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিজেদের মহাসমাবেশে হামলার অভিযোগ তোলে রবিবার সারা দেশে হরতাল ডাকার মাধ্যমে প্রায় ৩ বছর ৮ মাস পর আবারও হরতাল কর্মসূচিতে ফিরে এল বিএনপি। এর আগে দলটি সবশেষ হরতাল করেছিল ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি।
জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে এমন কর্মসূচিতে জনমনে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। হরতালের কারণে বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল না প্রতিদিনের স্বাভাবিক চেহারা। হরতালে বাস চালানোর ঘোষণা থাকলেও সকালে ছাড়েনি দূরপাল্লার গাড়ি।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ, বাংলামোটর, মতিঝিল, পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, মিন্টোরোড, আরামবাগ মোড়, খিলগাঁওসহ প্রতিটি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অফিস ও কাজের উদ্দেশে বের হওয়া মানুষকে।
এদিকে হরতালের ভেতর মোহাম্মদপুর, তাঁতিবাজার ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এসব বাসে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এতে কোনো হতাহতের খবর জানা যায়নি।