ফিফা বিশ্ব কাপে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শনিবার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে মেসির আর্জেন্টিনা।
চলতি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সব চেয়ে বিতর্কিত ম্যাচটিতে ১৬টি হলুদ কার্ড একটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও ম্যানেজার লিওনেল স্কালোনিসহ আর্জেন্টিনা শিবিরের ৯ সদস্যকে প্রতিযোগিতায় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
ওই দিন আর্জেন্টিনার যেসব খেলোয়াড়দের হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আগেই টুর্নামেন্টে একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন। তারা হলেন গঞ্জালো মন্টিয়েল মার্কোস অ্যাকুনা।
ফলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না তারা। টুর্নামেন্টে প্রথম বার হলুদ কার্ড পাওয়া মেসির অবশ্য সেমিফাইনাল খেলতে সমস্যা নেই।
আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে লিড নিয়েছিল যখন মেসির দুর্দান্ত পাসে নাহুয়েল মোলিনা গোল করেন। মেসি পেনাল্টি কিকে দ্বিতীয় গোল করলে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যায়।
কিন্তু ওয়াউট ওয়েঘর্স্টের দুটি গোলে সমতায় ফিরে নেদারল্যান্ড। এরপর ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে।
লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল বিদায় রোনালদো, ইতিহাস গড়ে সেমিতে মরক্কো ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে কাতার এসেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
কিন্তু নকআউট পর্বে এসে শুরুর একাদশেই জায়গা মিলছিল না এই তারকার। শেষ ষোলোর মতো কোয়ার্টার ফাইনালে মঞ্চেও তাকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল। কিন্তু আফ্রিকার সিংহ মরক্কোর কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে নিলো রোনালদোর পর্তুগাল। আর ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো আটলাস লায়ন্সরা।
ঐতিহাসিক জয়ের পর সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাল মরক্কো
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) দোহার আল থুমামা স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে শুরুর একাদশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই মাঠে নামে পর্তুগাল।
তবুও চতুর্থ মিনিটেই সহজ সুযোগ পেয়ে গেছিল তারা। কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেস ক্রসে জোয়াও ফেলিক্সের হেডের শট সহজেই ধরে ফেলেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
এর মিনিট দুয়েক পরে কর্নার পায় মরক্কো। হাকিম জিয়েখ কর্নার কিক থেকে বল উড়িয়ে মারেন পর্তুগালের ডি-বক্সের মধ্যে। কিন্তু সেখানে থাকা ইউসেফ এন-নেসেরির শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর ১৮তম মিনিটে হাকিম জিয়েখও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ওউনাহির বাড়িয়ে দেওয়া বলে তার শট বক্সের বাইরে দিয়ে চলে সেমিফাইনালে ইতিহাস গড়া মরক্কোর প্রতিপক্ষ ফ্রান্স
কিন্তু বল দখলে আর আক্রমণে বেশ এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না পর্তুগাল। অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের আক্রমণে ধার বাড়ায় মরক্কোইয়ানরা। যার ফলে ম্যাচের ৪২তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলের দেখা পেয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। ইয়াহইয়া আতিয়াতাল্লাহ ক্রস করে ডি-বক্সের মধ্যে বল বাড়িয়ে দিলে বেশ উপরে লাফিয়ে উঠে হেড থেকে গোল করেন ইউসেফ এন-নাসেরি।
বিশ্বকাপ থেকে রোনালদোর অশ্রুসিক্ত বিদায় যার সুবাদে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আটলাস লায়ন্সরা। বিরতির পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। এজন্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে মাঠে নামান কোচ সান্তোস। কিন্তু ৫৮তম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি পর্তুগিজরা। এ সময় ওটাভিয়ার ক্রসে বক্সের মধ্যে হেড নিয়েছিলেন গনসালো রামোস। কিন্তু অল্পের জন্য সেটি ডানপাশ দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে গোলের দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। কিন্তু তার ডি-বক্সের সামনে থেকে নেওয়া বুলেট গতির শটটি গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। ফলে হতাশায় পুড়তে হয় ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের এই তারকাকে। শেষ মুহূর্তে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়েও আর গোলের দেখা পায়নি পর্তুগাল। ফলে আফ্রিকার দলটি ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো।
বিশ্বকাপ থেকে রোনালদোর অশ্রুসিক্ত বিদায় কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ মরক্কো ইতিহাস পদত্যাগ করলেন নেদারল্যান্ডসের কোচ ফন গাল
কাতার বিশ্বকাপের পর পদত্যাগের সিদ্ধান্তটা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের কোচ লুইস ফন গাল। তার অধীনে ডাচরা মরুর বুকে বিশ্ব আসরে বেশ ভালোও করেছিল। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে ভার্জিল ফন ডাইকের দল। যার কারণে এবার নিজেই সরে দাঁড়ালেন ৭১ বছর বয়সী এই কোচ।
নেদারল্যান্ডসের অন্যতম সেরা এই কোচ সর্বজন স্বীকৃত। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনা, আয়াক্স, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বেশ সফল ছিলেন তিনি।
তাই তৃতীয়বারের মতো দেশের ডাগ-আউটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের অধরা ট্রফি এনে না দিতে পারার কষ্ট নিয়েই বিদায় নিলেন সদ্য ক্যানসারজয়ী এই কোচ।
বিশ্বকাপ থেকে রোনালদোর অশ্রুসিক্ত বিদায় নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২০০০-০১ সালে প্রথমবার কোচ হয়েছিলেন তিনি নেদারল্যান্ডসের। যেখানে ১৫টি ম্যাচে ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে ৯টি ম্যাচ জিতেছিলেন। কিন্তু সেখানেই প্রথম মেয়াদ শেষ করেন ফন গাল।
এরপর ২০১২ সালে আবারও দ্বিতীয় মেয়াদে নেদারল্যান্ডসের কোচ হন ফন গাল। তার অধীনেই ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্পেনকে হারিয়ে গ্রুপে শীর্ষ হয়ে বিশ্বকাপের সেমিতে উঠেছিল তারা। কিন্তু সেবারও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল কমলা জার্সিধারীরা।
ঐতিহাসিক জয়ের পর সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাল মরক্কো
এবার তৃতীয় মেয়াদে ডাচদের হয়ে ২০২১ সালে দায়িত্ব নিয়ে মোট ২০ ম্যাচে ১৪টিতেই জয়ের দেখা পেয়েছেন তিনি। বড় দলগুলোকে শিরোপা জেতাতে না পারলে কোচরাও স্থায়ী হন না। যার ফলশ্রুতিতে তিনি নিজে থেকেই সরে দাঁড়ান।
লুইস ফন গালের বিদায়ে নেদারল্যান্ডস দলে তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন আরেক সাবেক ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যান। তিনিও স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার ডাগআউট সামলেছেন। ফলে ডাচরা ভবিষ্যতে কি করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়। সেমিফাইনালে ইতিহাস গড়া মরক্কোর প্রতিপক্ষ ফ্রান্স
নেদারল্যান্ডস ফন গাল কোচ
পর্তুগালের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে
চলতি কাতার বিশ্বকাপে উড়েই চলেছে উত্তর আফ্রিকার মুসলিম দেশ মরক্কো। মরুর বুকে বিশ্বকাপে একের পর এক অঘটন উপহার দিয়ে যাচ্ছে আশরাফ হাকিমিরা। এবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে ইউসেফ এন-নাসেরির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গেছে মরক্কো। যার সুবাদে রোনালদোবিহীন পর্তুগিজদের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে আটলাস লায়ন্সরা।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) দোহার আল থুমামা স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নামে মরক্কো। তবে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই সহজ সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেস ক্রসে জোয়াও ফেলিক্সের হেড ধরে ফেলেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
এর মিনিট দুয়েক পরে কর্নার পায় মরক্কো। হাকিম জিয়েখ কর্নার কিক থেকে বল উড়িয়ে মারেন পর্তুগালের ডি-বক্সের মধ্যে। কিন্তু সেখানে থাকা ইউসেফ এন-নেসেরির শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর ১৮তম মিনিটে হাকিম জিয়েখও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ওউনাহির বাড়িয়ে দেওয়া বলে তার শট বক্সের বাইরে দিয়ে চলে যায়। বল দখলে আর আক্রমণে পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছে মরক্কোইয়ানরা।
যার ফলে ম্যাচের ৪২তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলের দেখা পেয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। মাঠের বাম দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠে মরক্কোর ইয়াহইয়া আতিয়াতাল্লাহ মাঝ মাঠ পেরিয়ে কিছুটা সামনে এসে ক্রসে ডি-বক্সের মধ্যে বল বাড়িয়ে দেন। সেখানে বেশ উপরে লাফিয়ে উঠে হেড নেন ইউসেফ এন-নাসেরি। তার দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ায়। তার গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আটলাস লায়ন্সরা।
বিশ্বকাপে এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল মরোক্কো ও পর্তুগাল। গ্রুপপর্বের সেই দুইবারের দেখায় একবার মরোক্কো ও একবার পর্তুগাল জিতেছিল। তবে নকআউট পর্বে এবারই প্রথম মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। আজ জিতলে প্রথম কোনো আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়াগ করে ইতিহাস গড়বে মরোক্কো। অন্যদিকে পর্তুগাল জিতলে তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে যাবে তারা।