পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে আগামীকাল রোববার, ৩ এপ্রিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটভুটি হওয়ার কথা। এতে এখন পর্যন্ত যে আভাস মিলেছে, তা হলো- বিরোধীরা ১৯৯ ভোট পেতে পারেন, সরকারি জোট পেতে পারে ১৪২ ভোট।
জিও নিউজ জানায়, পাকা জাতীয় পরিষদ বা এমএনএ-এর ৩৪২ সদস্যের মধ্যে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, পিটিআইয়ের আছে ১৫৫ জন। তার মধ্যে ১৩ জন এমএনএ বিরোধীদের সঙ্গে হাত মোলানোয় ঝুঁকির মুখে পড়েছেন ইমরান খান। তাকে সরাতে হলে ন্যুনতম ১৭২ জনের সমর্থন পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিরোধীরা জোগাড় করেছে ১৯৯টি ভোট।
ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইমরান সব রকমের চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতাচ্যুত হলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, কীভাবে নির্বাচিত হবেন? এসব নিয়ে জল্পনার মধ্যেই প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ, পিএমএল-এন বলেছে, তাদের প্রধান শাহবাজ শরিফ এই পদে আসীন হবেন। এতে সমর্থন দিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি, পিপিপিও।
এখন প্রশ্ন হলো- পাক প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হলে কীভাবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবে? জাতীয় পরিষদে কোনো বিতর্ক না করে নতুন একজন মুসলিম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে দেশটির আইনে। প্রধানমন্ত্রী পদে জাতীয় পরিষদের যেকোনো এমএনএ নিজের বা অন্য সদস্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।
জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঠিক হলে সংসদ সচিবের কাছে নাম পাঠাতে হবে। প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবক বা সমর্থকদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন স্পিকার। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের বিচারে মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারেন তিনি। সেগুলো হলো- প্রার্থী জাতীয় পরিষদের সদস্য, এমএনএ না হলে; প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ৩২ নম্বর বিধি ভঙ্গ করলে এবং প্রস্তাবক, দ্বিতীয় ব্যক্তি বা প্রার্থীর সই জাল হলে।
এসব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা বা বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোটাভুটির আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন যেকোনো প্রার্থী। প্রার্থী একজন হলে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোট পেলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন স্পিকার। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সমাপ্তি ঘোষণা করে ফের নতুন করে প্রক্রিয়াটি শুরু করা হবে।
এ ছাড়া দুইয়ের অধিক প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হলে এবং প্রথমবারের ভোটে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন না পেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুজনের মধ্যে ভোট হবে। দুই প্রার্থীর ভোট সমান হলে একজন সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া পর্যন্ত ভোট হতে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পর সেই ফলাফল প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন স্পিকার, তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে সচিবালয়।
পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগপর্যন্ত আগের প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। এসব প্রক্রিয়া শুরুর আগে অবশ্যই ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটে পরাস্ত করতে হবে বিরোধীদের। অন্যথায় সকল পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র ভেস্তে যাবে। বিষয়টির ফয়সালা আগামীকাল রোববার আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।