চব্বিশ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাসহ মারিউপোলে মানবিক করিডোর স্থাপন করা এই মুহুর্তে দুইটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার আহবান জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভের সাথে বৈঠকের পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা এ দাবি জানান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভ ক্রেমলিনে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দেবেন, যেন মারিউপোলে মানবিক করিডোর স্থাপনের জন্য কাজ শুরু করা হয়।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভ ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা তুরস্কের আন্তালায়ায় এ বৈঠকে বসেন।
এদিকে আন্তালিয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে যে বৈঠক হয়ে গেল তাতে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বৈঠকের পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেসব দাবি তুলে ধরেছেন সেগুলো মানা হলে সেটা হবে তাদের কাছে আত্মসমর্পণের সামিল।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরো বলেন এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া সম্ভব নয় যদি রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্দেশ্য না থাকে।
এদিকে রুশ বাহিনীর দখলে থাকা শহরগুলো থেকে বেসামরিক নাগরিকরা যেন বের হয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে সাতটি ‘মানবিক করিডোর’ শুরু করছে ইউক্রেন, জানিয়েছেন ইউক্রেনের উপ প্রধানমন্ত্রী ইরইয়ানা ভেরেশ্চুক।
মানবিক করিডোর এমন অঞ্চল, যেখানে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দিতে সাময়িকভাবে সেনা কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের শহর সুমি’র আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন যে শহর ছাড়তে চাওয়া মানুষ এরই মধ্যে ঐ অঞ্চল ছেড়ে বের হতে শুরু করেছেন এবং সেখানে স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিরতি চলছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়া দু্ই দেশই মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে রাজি হয়েছে।