ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে। আর এই ঘোষণার পর জ্বালানি তেলের দাম বিগত তের বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে উঠেছে। অর্থাৎ সর্বশেষ ২০০৮ সালে তেলের দাম এই পর্যায়ে উঠেছিল।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রোববার অপরিশোধিত তেলের দাম এশিয়ার বাজারে ব্যারেল প্রতি ১৩৯ ডলার ছুঁয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিশ্বের জ্বালানি বাজার চড়া। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভোক্তারা এরইমধ্যে টের পেতে শুরু করেছেন, দৈনন্দিন জ্বালানি খরচের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের পেছনেও খরচ বেড়ে গেছে।
এরই প্রেক্ষাপটে সোমবার এশিয়ার পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও ৪ শতাংশ পড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টিন ব্লিনকেন জানান, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এবং তাদের মিত্ররা রাশিয়ার তেল সরবরাহের ওপর অবরোধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে।
রোববার আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে গত সপ্তাহজুড়ে পেট্রোলের দাম ১১ শতাংশ বেড়ে ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। আরএসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম গড়ে প্রতি লিটারে ১ পাউন্ড ৫০ পেনি বেড়েছে।
এই যুদ্ধের কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে এবং যুক্তরাজ্যে বসতবাড়িতে বার্ষিত গ্যাসের বিল তিন হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যেতে পারে এই আশঙ্কায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে গ্যাসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।