যারা ইউক্রেনে রুশ অভিযানের বিরোধিতা করছে, তারা যেন রাশিয়ার ওপর আর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরিস্থিতির অবনতি না ঘটায় বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এক সরকারি সভায় ভাষণ দেয়ার সময় পুতিন এসব হুঁশিয়ারি দেন বলে জানায় বিবিসি। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা রসিয়া টিভি ২৪ চ্যানেলে এই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে।
ওই ভাষণে পুতিন বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রতি আমাদের কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই।
সম্পর্কের অবনতি ঘটে এমন কোন পদক্ষেপ প্রতিবেশী দেশগুলো নেবে না বলে তার সরকার মনে করে।
পুতিন আরাে বলেন, সম্পর্ক কীভাবে স্বাভাবিক করা যায়, কীভাবে সহযোগিতা বাড়ানো যায়, সেটাই সবার চিন্তা করা উচিত।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এসব মন্তব্য এমন সময় এলো যখন রাশিয়ার ওপর কীভাবে চাপ বাড়ানো যায় তার পথ খুঁজে বের করার জন্য পশ্চিমা দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে এক বৈঠক শুরু করেছেন।
এদিকে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় জেপোরজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার জন্য রুশ রকেট হামলাকে দায়ি করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ওই হামলা বেশ কয়েকজন হতাহতের দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশে রুশ হামলা অব্যাহত থাকায় কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়ে আছে বলেও দাবি করেছে ইউক্রেন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দখল নিতে বৃহস্পতিবার হামলা চালায় রাশিয়া। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয় দুপক্ষের গোলাগুলিতে আগুন ধরে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে।
শুক্রবার সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এরপরই তার দখল নেয় রুশ বাহিনী। বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিস্ফোরিত হলে তা চেরোনোবিলের থেকে ১০ গুণ ভয়াবহ হতো বলে সতর্ক করেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
এছাড়া, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান জোরদার করেছে রাশিয়া। মারিওপোল এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তার দখল নিতে মরিয়া রুশ বাহিনী।
এদিকে ইউক্রেন হামলার জেরে এশিয়ায় শেয়ারের দরপতনের রেকর্ড হয়েছে।