ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) রাতে উপজেলার কাঠালবাড়িয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে হাবিবুর মোল্যার সমর্থক হাফিজুর মাতুব্বরকে প্রতিপক্ষ আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা কুপিয়ে আহত করে। ওই ঘটনার মীমাংসার জন্য রোববার সালথা থানায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে হাবিবুর মোল্যার পক্ষ সালিশে অংশ নিতে সম্মত হলেও আজিজুল মোল্যার পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
পরবর্তীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
সংঘর্ষে হাবিবুর মোল্যা ও আজিজুল মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”