চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড–সন্দ্বীপ নৌরুটে চলাচলকারী জনপ্রিয় স্পিডবোট সেবা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নতুন ভাড়ায় ব্যবসা চালানো লোকসানজনক হওয়ায় এমন সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন বোট মালিকরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই কুমিরা–গুপ্তছড়া ঘাটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই পাশে আটকে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী, দেখা দেয় চরম ভোগান্তি।
সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান ব্যয় কাঠামোয় নির্ধারিত ভাড়ায় বোট চালানো সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জগলুল হোসেন নয়ন জানান, লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই ভাড়া পুনর্বিবেচনার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন।
বোট মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও ঘাট ইজারা বাড়লেও সরকার নতুন ভাড়া মাত্র ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা করেছে। অথচ অন্যান্য একই দূরত্বের রুটে ভাড়া ৩০০ টাকার বেশি, যা তারা বৈষম্য হিসেবে দেখছেন।
সন্দ্বীপের লাখো মানুষের জন্য এই স্পিডবোট সেবা জরুরি যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবা বন্ধ হয়ে গেলে মানুষকে দীর্ঘ সময় নিয়ে জাহাজ বা ট্রলারে যাতায়াত করতে হবে, ফলে দুর্ভোগ বাড়বে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই সেবা চালাতে হবে এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।