জুলাইয়ের সেই কষ্টের স্মৃতি এখনো ভুলে যাওয়া যায়নি। একটি সাধারণ পরিবারের স্বপ্ন আর স্বাভাবিক জীবনের মাঝে হঠাৎ নেমে আসে এক নির্মম ঘটনা। শহীদ নাইমার বাড়িতে গিয়ে যে অনুভূতি, দায়িত্ববোধ আর প্রশ্ন সামনে এসেছে, তা শুধু ব্যক্তিগত নয়—পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দেয়। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ডা. মাহমুদা মিতু তার অনুভূতি তুলে ধরেছেন।
তিনি লিখেছেন, শপথ নেওয়ার পরই প্রথম কাজ হিসেবে নাইমার বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, নাইমার মা তাকে দেখে খুব খুশি হয়েছেন। নাইমা তার মেয়ের কাছাকাছি বয়সী, আর তার মা প্রায় তারই সমবয়সী।
নাইমার বাড়িতে গিয়ে তার কাছে শপথের দায়িত্ব আরও বেশি ভারী মনে হয়েছে।
তিনি জানান, নাইমা পিজ্জা বানানোর জন্য মুরগির মাংস নামিয়ে বারান্দায় গিয়েছিল। সেখানেই সে গুলিতে নিহত হয়।
তার মতে, রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যেখানে একক কর্তৃত্বের সুযোগ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন না হলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসবে।
নাইমার মাকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তার কোনো চাওয়া আছে কি না। উত্তরে তিনি দুটি কথা বলেন—জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দেশের প্রকৃত সংস্কার।
কারণ তার আরও দুই সন্তান আছে। তিনি আশঙ্কা করেন, যদি পরিবর্তন না আসে, তবে ভবিষ্যতে তাদেরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতে পারে।
ডা. মিতু মনে করেন, সংস্কার না হলে দেশ আবার আগের একই রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।
তিনি বলেন, শুধু আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা হয় না, রাষ্ট্র চলে সংবিধান ও ব্যবস্থার মাধ্যমে। তাই সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি।
তার মতে, দেশের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের উচিত নিয়মিত এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে গিয়ে বসা। এতে তারা বুঝতে পারবেন কেন তারা দায়িত্বে আছেন এবং তাদের মূল কাজ কী।
শেষে তিনি সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা স্মরণ করেন—গুলিবিদ্ধ নাইমাকে বারান্দা থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল কিছু শিক্ষার্থী। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।