তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, নবগঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) বড় ধরনের অগ্রগতি দেখাচ্ছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি. জোসেফ বিজয়, যিনি ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত, তার নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচনী লড়াইয়ে চমক দেখাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (ডিএমকে) নেতৃত্বাধীন সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন বড় ধরনের চাপে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি স্ট্যালিনের নিজ নির্বাচনী কেন্দ্র কোলাথুরেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক ফলাফলে টিভিকে দ্রুত ম্যাজিক ফিগারের দিকে এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, অন্যদিকে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে একাধিক আসনে পিছিয়ে পড়েছে। ফলে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত মিলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের জনপ্রিয়তা টিভিকের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে টিভিকে নিজেকে ‘প্রতিটি তামিল পরিবারের অংশ’ হিসেবে উপস্থাপন করে এবং বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা ও ভাতার প্রতিশ্রুতি দেয়—যার মধ্যে রয়েছে স্নাতকদের জন্য মাসিক ভাতা, নারীদের আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি পরীক্ষার সময়মতো আয়োজনের প্রতিশ্রুতি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই টিভিকের এই অগ্রগতি তামিল রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। করুণানিধি ও জয়ললিতার পর গড়ে ওঠা ডিএমকে–এআইএডিএমকে কেন্দ্রিক রাজনীতিতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের নামও। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তার পরামর্শে টিভিকে সংগঠন ও প্রচারে নতুন কৌশল গ্রহণ করে, যা তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সহায়তা করেছে।
তবে এখনো চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়ায় তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য সত্যিই বদলেছে কি না।
সূত্র: ভারতীয় ও বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন