যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এখন ১২তম দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানের তেল খাত হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে নতুন কৌশল ভাবছে তেহরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি বলেন, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষতি পূরণে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, একটি প্রস্তাবে আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের জন্য দায়ী দেশগুলোকে অর্থ দিতে হবে। আরেকটি আলোচিত প্রস্তাব হলো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কর আরোপ করা।
ইজাদির মতে, ইরান আর এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে চায় না যেখানে তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু অন্য দেশগুলো স্বাভাবিকভাবে লাভবান হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ এ পথ ব্যবহার করে। তাই এখানে নতুন কোনো কর বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা হয়েছে এবং এতে ১ হাজার ৩০০–এর বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।