কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করতে সমুদ্রপথে মাইন বসানো শুরু করেছে ইরানের বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)। মার্কিন হুমকির জবাবে তেহরানের এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
সিএনএন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হরমুজ প্রণালীকে ‘মৃত্যু উপত্যকা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। আইআরজিসি ইতিমধ্যেই রেডিও বার্তার মাধ্যমে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। গত কয়েক দিনে প্রণালীতে কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখনো ৮০–৯০ শতাংশ জাহাজ মাইন বসানোর জন্য প্রস্তুত রাখছে, ফলে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো প্রণালীতে শত শত মাইন ছড়াতে সক্ষম।
ইরান দ্রুতগামী বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ব্যবহার করে প্রণালীর চারপাশে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবাহিত করে। এখন প্রণালী বন্ধ হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে গেছে:
- ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল
- ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি
ইরাক ও কুয়েতের মতো দেশগুলোর জন্য বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা নেই, ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “মাইন অপসারণ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। যদি ইরান পুরো প্রণালী মাইন দিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থবির হয়ে যাবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এর মাধ্যমে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে চাচ্ছে এবং বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তাদের আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।