প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মানহানি, ভয়ভীতি ও অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।
৭ই মার্চ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে একই দিনে বিএনপির রমনা থানার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আমিরুল ইসলাম (আমীর) জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মির্জা আব্বাসের কাছে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নির্বাচনের সময় তিনি বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার এবং হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫ মার্চ ফেসবুকে আশরাফুল ইসলাম দেখতে পান যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে নানা মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। এসব বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে, যা মির্জা আব্বাসের সুনাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য প্রকাশ করেছেন, যা শালীনতা ও সামাজিক আচরণের পরিপন্থী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুজনেই মনোনয়ন পান। আলোচিত এই আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বিএনপির মির্জা আব্বাসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
নির্বাচনের ফলাফলে মির্জা আব্বাস ৪ হাজার ৯৮০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি মোট ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান, আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট।