ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে নিয়োজিত জাতিসংঘ-এর একটি স্বাধীন তদন্তদল ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর জবাবে অঞ্চলজুড়ে তেহরানের পাল্টা আঘাতের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী।
জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ। ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক সত্য-অনুসন্ধান মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, “এসব হামলা, যার পর ইরান অঞ্চলজুড়ে পাল্টা আঘাত হেনেছে, জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।”
সংস্থাটি দক্ষিণ ইরানের মিনাবে শাজারেহ তাইয়্যেবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের অধিকাংশই সম্ভবত সাত থেকে ১২ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী।
এর আগে বুধবার জাতিসংঘের আরেকটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এ পর্যন্ত ১৬০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।
তদন্তদল জানায়, ইরানের সাধারণ জনগণ একদিকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ সামরিক অভিযানের মুখে, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারের অধীনে রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের পর কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং তারা নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে কারাগারে আটক বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যেকোনো হামলার কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। ইরানে কারাবন্দি এক ব্রিটিশ দম্পতি জানিয়েছেন, সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের রাখা এভিন কারাগারে বিস্ফোরণের কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং তাদের সেল ব্লকে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তদন্তদলের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েক ডজন ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয়।