ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার আগেই নিজের উত্তরসূরি নির্ধারণ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রূপরেখা তৈরি করে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় চার দশক ধরে তিনি ইরানের ধর্মীয়, সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন। রোববার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলার সময় তিনি নিহত হন বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি সূত্র বলছে, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে খামেনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি–কে দেশ পরিচালনার বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে যান। জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সামরিক ও রাজনৈতিক একটি বিশেষ মহলের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ বা Assembly of Experts–এর। তবে খামেনি সম্ভাব্য তিনজনের নাম আগেই চূড়ান্ত করেছিলেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন:
বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই
খামেনির দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি
সংস্কারপন্থি ধর্মীয় নেতা ও রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি হাসান খোমেনি
খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি–র নামও আলোচনায় থাকলেও, নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করার প্রবণতার বিরোধী ছিলেন খামেনি।
বর্তমানে ইরানের কার্যকর নেতৃত্ব কার হাতে রয়েছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কিছু নেতা হারালেও আত্মরক্ষার লড়াই চলবে। একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠনের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য থাকতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠকের মাধ্যমে নতুন নেতার নাম ঘোষণা হতে পারে। তবে চলমান পরিস্থিতি এবং প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি–র ভূমিকা ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।