ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার দাবির পর বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো ও মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশ থেকে বাইরে নিয়ে গেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম ও গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ইরান
তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কঠোর নিন্দা জানায়। তাদের মতে, এটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
কলম্বিয়া
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেন, এই হামলা লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং এতে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানান।
কিউবা
ভেনেজুয়েলার ঐতিহ্যগত মিত্র কিউবা এই ঘটনাকে ‘ভেনেজুয়েলান জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া চেয়েছে।
রাশিয়া
রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন বলে নিন্দা করেছে। দেশটি বলেছে, এই হামলার কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই এবং কূটনীতির জায়গায় শত্রুতা প্রাধান্য পেয়েছে।
স্পেন
স্পেন উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতায় প্রস্তুত।
জার্মানি
জার্মানি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ইতালি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং কারাকাসে থাকা ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
বেলজিয়াম
বেলজিয়াম জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তারা ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
ট্রিনিদাদ ও টোবাগো
দেশটির প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর বলেন, ৩ জানুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে ট্রিনিদাদ ও টোবাগো এসব অভিযানের সঙ্গে জড়িত নয় এবং তারা ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটি সব পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধে জড়ানোর মতো কোনো জাতীয় স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। আর সিনেটর রুবেন গালেগো এই যুদ্ধকে বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন।
বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস
ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।