সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ যখন গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে, ঠিক এমন সময়েই ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যোদয় আমাদের সামনে হাজির করেছে নতুন বার্তা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালের না-পাওয়া, ভুল, হতাশা, দুঃখ ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে শুরু হলো নতুন পথচলা। ২০২৬ সালের এই প্রথম সূর্যোদয় আমাদের মনে জাগিয়েছে অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। আছে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আশা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।
খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের সূর্যোদয় ঘটলেও বুধবার রাত ১২টায় ঘড়ির কাঁটা শূন্য ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নতুন বছরের যাত্রা। নতুন বছর মানেই নতুন প্রত্যাশা। সাহস, উদ্যম আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২৬ উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালি ও বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলা হয়, নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা। এই নতুনের আগমন আমাদের উজ্জীবিত করে, পুরোনো সব গ্লানি ভুলে সুন্দর ভবিষ্যতের পথে এগোতে অনুপ্রেরণা জোগায়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন বছর জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সংস্কার করে গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নতুন বছরে জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পূর্ণতা পাবে। সব চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ইংরেজি নববর্ষে দেশ-বিদেশের সবার জন্য আনন্দ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। নতুন বছরে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নতুন করে দেখার আহ্বান জানান। তিনি এমন একটি রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের গুরুত্ব থাকবে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। আলাদা বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুভেচ্ছা বার্তায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা পেছনে ফেলে নতুন বছর যেন শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও কল্যাণ বয়ে আনে—এটাই কামনা। একটি বছর আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতার নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে যায়, আর নতুন বছর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ এনে দেয়।
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা কারণে ২০২৬ সালকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সবাই। সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে দেশ আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে। গত বছর অনেক আশা পূরণ না হলেও নতুন উদ্যম নিয়ে এগোলে সাফল্য আসবেই—এটাই মানুষের বিশ্বাস। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটে দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরে এসেছে।
ভোটের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে মানুষ নতুন সুশাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সে অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ একটি ভালো সময়ের আশায় রয়েছে—যেখানে বৈষম্য কমবে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হবে।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রত্যাশা করছে। সাধারণ মানুষও চায় ভোটের অধিকার পুরোপুরি ফিরে আসুক। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে অতীতের ভুল সংশোধন করে নতুনভাবে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
২০২৫ সালে দেশের অর্থনীতি নানা সংকটে পড়েছিল, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে। মানুষের প্রত্যাশা, ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক সূচকগুলো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে। সব শ্রেণির মানুষের সচ্ছলতা ফিরবে, জীবনমান উন্নত হবে। মূল্যস্ফীতি কমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে। বিনিয়োগ বাড়ার মাধ্যমে অর্থনীতির গতি বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এমন আশাবাদ সবার।
২০২৬ সালে প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে মানুষ আশা করছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি বাড়বে, প্রবাসী আয় ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে। কেউই রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা বা অস্থিরতা চায় না। সবার প্রত্যাশা—স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও শক্ত ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও আবাসনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর হয়ে দেশে সত্যিকারের শান্তি ও স্বস্তি ফিরবে।