ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার ২০ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার গালিমপুর এলাকায় প্রয়াত মন্ত্রী আব্দুল মান্নানের বাসভবনে মান্নান নিলুফার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান, এসএম মিজানুর রহমান রাজ ও খন্দকার আবু আশফাকের নেতৃত্বাধীন বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটে। একই সঙ্গে তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর জীবনের বড় একটি সময় দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। বহু বাধা ও কষ্টের মাঝেও তিনি দেশ ও জনগণের পাশে থেকেছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। আল্লাহর কাছে আমাদের একটাই দোয়া—তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক অন্যতম সদস্য, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এর অন্যতম যুগ্ন আহবায়ক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল এর সাবেক সভাপতি, সাবেক তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, এসএম মিজানুর রহমান রাজ বলেন, ধানের শীষ হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতীক। আমরা সবাই বিএনপি করি এবং এখানকার সবাই বিএনপি পরিবারভুক্ত। আশফাক ভাই, মেহনাজ আপাসহ এলাকার সকলেই বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমান দোহার–নবাবগঞ্জের জন্য খন্দকার আবু আশফাককে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছেন। ধানের শীষ কার মার্কা—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি বিএনপির মার্কা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের মার্কা।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “ধানের শীষ যার, আমরা তার”—এই প্রত্যয়ে বিএনপি পরিবার ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মান্নান নিলুফার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রয়াত এমপি আব্দুল মান্নানের কন্যা ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। তিনি বলেন, তিনি নিজেও বিএনপি পরিবারের সদস্য। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন এই আসনের এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। সবাই একসঙ্গে কাজ করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, খন্দকার আবু আশফাক একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা, যিনি দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। সেই কারণেই দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন আগলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ হোসেন, দোহার উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার শাহীন মাহমুদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রানা, ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভির আহমেদ সানু মোল্লা, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, গালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তপন মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।