ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী বা নিক্সন চৌধুরীকে অভিযুক্ত করে, ১৩ নভেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল করতে নাশকতা চালানোর জন্য টাকা দিয়েছে এমন তথ্য পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফারুক হোসেন বা বোম ফারুক।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল এসব তথ্য জানান।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি এলাকার নুরজাহান টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় একই বাসা থেকে যুব মহিলা লীগের নাসরিন আক্তারকেও আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ ও মহিলা যুবলীগের কর্মীরা ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি ফারুক হোসেনের মদদে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারকে উৎখাত করার, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং উসকানিমূলক স্লোগান প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মাঠে নামে।
পুলিশ তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সুপার বলেন, নিক্সন চৌধুরী ৫ লাখ টাকা ফারুক হোসেনকে দিয়েছে, যার মধ্যে ৪ লাখ টাকা ফারুক হোসেন অন্য একজনকে দিয়েছেন। সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ফারুক হোসেন বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে তার দলের লোকদের অর্থ প্রেরণ করেন।
ফারুক হোসেনের মোবাইল বিশ্লেষণ করা হলে দেখা গেছে, ঢাকা লকডাউন সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি তথ্য আদান-প্রদান করেছেন।
ফারুক হোসেনের নামের সঙ্গে ‘বোম’ শব্দের সংযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ১৯৮১ সালে তিনি ইয়াসিন কলেজের ভিপি থাকাকালীন ছাত্রদলের ওপর হামলার সময় হাতবোমা বিস্ফোরিত হওয়ায় তার বাম হাতের একটি আঙ্গুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকে ফরিদপুরে তিনি বোম ফারুক নামে পরিচিত।
তিনি আরও জানান, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় চারটি এবং সূত্রাপুর থানায় দুটি মামলা, মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, নারী যুবলীগ সদস্যের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার যে রটনা আছে তা সত্য নয়।
পুলিশ সুপার অবহিত করেন, এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হবে। মামলায় উপপরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বাদী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৩ নভেম্বরের ‘ঢাকার লকডাউন’ নাশকতা রোধে ফরিদপুরসহ বিভিন্ন থানায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ জন এবং গত তিন দিনে ৬০ জনের অধিক নেতাকর্মী আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার অভিযান এখনও চলমান।