ঢাকাTuesday , 26 December 2023
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই চ্যালেঞ্জে পুলিশ

Link Copied!

জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণ বিধি ভাঙার প্রতিযোগিতা যেন ততই বাড়ছে। অনেক আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সহিংসতা-সংঘাত হচ্ছে।

#New_Classic_Event_Management

নির্বাচনী এই ডামাডোলের মধ্যে নির্বাচন ‘ঠেকাতে’ চলছে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো নাশকতা। আন্দোলন রত বিএনপি ও সমমনা দল গুলোর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে যানবাহন ও স্থাপনায় আগুন দেওয়া হচ্ছে। চলছে ককটেল বাজিও। এমন পরিস্থিতিতে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে সারা দেশে পুলিশ
কে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। রাস্তা ঘাট দখল করে যাতে প্রচার না হয়,যে কোনো ধরনের জন ভোগান্তি যাতে না হয়, প্রার্থীদের এই নির্বাচনী আচরণ বিধি মানাতে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর পরও প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।


এই সংঘর্ষ যাতে না হয় ও তা হয়ে গেলে মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তারেও সময় দিতে হচ্ছে। প্রতিদিনের নিয়মিত কাজের পাশা পাশি নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত দায়িত্ব
পালন করতে হচ্ছে। এর বাইরে নির্বাচন বানচাল করতে নানা নাশকতা চালানো হচ্ছে। এই নাশকতা ঠেকানো নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় নিতে কাজ করতে হচ্ছে পুলিশ কে। বড় ধরনের নাশকতা ঠেকাতেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে এ দুই দায়িত্ব পালন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ উতরে যাওয়ার সক্ষমতা পুলিশ বাহিনীর রয়েছে।

নির্বাচন আচরণ বিধি মানানো,আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা সহ সার্বিক বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশন আইন
শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ও আশপাশের এলাকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন,

‘অন্যান্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পুলিশ,অন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্টেক হোল্ডারদের একমুখী সমস্যা থাকে সেটা হলো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণ বিধি মানতে বাধ্য করা ও নির্বাচনে সহিংসতাপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন করা। এবারের জাতীয় নির্বাচনে আরেকটি অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত হয়েছে,সেটি হচ্ছে—নাশকতা,আতঙ্ক ও শঙ্কা সৃষ্টি করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’

অবশ্য তিনি বলেন,‘এসব সমস্যা ও শঙ্কা মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার মতো অবস্থান সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক ইনামুল হক সাগর বলেন,জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ স্থানীয় নির্বাচন গুলোতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও নির্বাচনী পরিবেশ ধরে রাখতে করণীয় সম্পর্কে পুলিশের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি মানুষের জানমাল রক্ষায় যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বন্ধেও পুলিশ বদ্ধপরিকর সেই অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই পুলিশের কাজ। পুলিশ সদর দপ্তরের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন,আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব কাজই চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকে। প্রশিক্ষিত বাহিনী হিসেবে সেই চ্যালেঞ্জ পার হওয়ার মতো কৌশলও জানা থাকে। এজন্যই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালাও-পোড়াওয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

একাধিক জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রত্যেক প্রার্থী কে সমান ভাবে মূল্যায়ন করছে পুলিশ। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অনেক চেষ্টা যেমন আগাম মোকাবিলা করা হচ্ছে,তেমনি কেউ পরিস্থিতি খারাপ করলে,সংঘর্ষ-সংঘাতে জড়ালে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এসব ঘটনায় মামলা হচ্ছে। সেই মামলার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অনেক সময় যাচ্ছে। আবার নাশকতা ঠেকাতেও রাত-দিন পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সবার ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা রেঞ্জের একটি জেলার পুলিশ সুপার বলেন,নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়,কোনো সহিংসতা যাতে না হয়,সে ধরনের বার্তা মাঠ প্রশাসনে রয়েছে। প্রার্থীদের কোনো সমর্থক বা কোনো গোষ্ঠী পরিবেশ যেন নষ্ট করতে না পারে,তৃতীয় পক্ষ যাতে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার মো.আলমগীর বলেন,নির্বাচনে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সে দিকে ব্যস্ত আছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে তো সেটা হতো না। বিভিন্ন জায়গায় বাসে আগুন দিচ্ছে, রেললাইন কেটে দিচ্ছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলো ওইসব দিকে সময় দিচ্ছে। বিএনপি ভোটে এলে এ সময়টা তো তাদের দিতে হতো না। তারা ভোটের ব্যবস্থাপনায় সময় দিতে পারত।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো.মোজাম্মেল হক বলেন,লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে পুলিশ যেমন দায়িত্ব পালন করছে,এই পরিবেশ যারা নষ্ট করতে জ্বালাও-
পোড়াও করছে,তাদেরও আইনের আওতায় নিতে পুলিশ কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচনে নানা নাশকতা একটি চ্যালেঞ্জ হলেও তা মোকাবিলা করার মতো পুরো সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। সে প্রমাণ নানা সময়ে এ বাহিনী দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি