এবার বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক ব্যাংকের ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করছে একটি চক্র। এরপর সেই কার্ডের টাকা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে আনা হচ্ছে দেশে। ৮ বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে চক্রটি। এই হ্যাকার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গেল ১৫ নভেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার হয় দামি ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পণ্য।
জিজ্ঞাসাবাদে যেন কেঁচো খুঁড়তেই সাপ বেড়িয়ে আসে। জানা যায়, সাধারণ কোনো প্রতারক নয়, এরা সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্র।
চক্রের সদস্যরা ডার্ক ওয়েবে ঢুকে রাশিয়ার হ্যাকারদের কাছ থেকে কিনে নেয় ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য। পরে সেই কার্ড হ্যাক করে টাকা দেশে আনে। এ ছাড়া কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য ও টিকিটও কেনে তারা।
ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, আট সদস্যের চক্রটি ২০১৪ সাল থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে। বাংলাদেশিদের এমন আচরণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ব্যাংকগুলো। এতে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বাংলাদেশের।
৮ বছর ধরে এমন অপরাধ চললেও যাদের দেখার কথা সেই বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কিছুই জানে না।
হ্যাকিংয়ের টাকায় বিলাসি জীবনযাপন করত চক্রের সদস্যরা। ইউরোপ আমেরিকা ভ্রমণ ছিল তাদের কাছে তুচ্ছ বিষয়।