ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট এলাকায় ঈদের পর দিন থেকে আজ বুধবারও ভ্রমণপিপাসুদের উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। নবীন-প্রবীণ, শিশু-কিশোরদের পদচারণে সরগরম ছিল দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় এই মৈনটঘাট। এছাড়া উপজেলার বাহ্রাঘাট “মিনি পতেঙ্গা” নামে পরিচিত এবং নারিশা ডাক-বাংলোতেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। এসব স্থানে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতেই পরিবার পরি জন, অত্বীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসেন সবাই।
ঢাকার অদূরে দোহার উপজেলার কার্তিপুর বাজার থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পদ্মার পাড়ে মৈনটঘাট। দোহার, নবাবগঞ্জসহ ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের অনেক মানুষ এই ঘাট দিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করে। ঘাটের দুই পাশে জেগে ওঠা চরের অংশবিশেষ নিয়ে বিশাল এলাকাটি অনেকটা সমুদ্রসৈকতের মতো রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বিকেল হলেই এখানে ভিড় জমান হাজারো নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা। ঈদের দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নদীর তিরে ব্যাপক লোকসমাগম দেখা গেছে।
পদ্মার পাড়ের দৃশ্য দেখতে ভালো লাগে। মন প্রফুল্ল হয়। তাই একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে বয়সের ভেদাভেদ ভুলে দোহারের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরতে আসে মানুষ। এমন কথাই জানান ঢাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন।
ঘুরতে আসা নবাবগঞ্জের বাসিন্দা রিফাত শেখ বলেন, ‘ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানে অনেক ভালো লাগে। পদ্মার ঢেউ, পালতোলা নৌকা, মাঝির গান, গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি—কোনো কিছুরই কমতি নেই এখানে। এই এলাকাকে পর্যটন স্পট ঘোষণা করা হলে বিনোদনের জন্য ভালো হবে। এটাকে মিনি কক্সবাজার বললেও ভুল হবে না। কী নেই এখানে। বিকেল হলেই বসে রকমারি পণ্যের দোকান। সূর্যাস্ত যেন সবাইকে পুলকিত করে। তাই আমরা চাই দ্রুত এই স্থানটিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে দেখতে।
ঘুরতে আসা কলেজ ছাত্রী মৌসুমি আক্তার বলেন, আমি দোহারের নাম করা দুটি স্থানেই ঘুরেছি একটি মৈনটঘাট মিনি কক্সবাজার আরেকটি মিনি পতেঙ্গা বাহ্রাঘাট। এই স্থান গুলোতে ‘সি-বোট, ট্রলার ও হেঁটে হেঁটে পানিতে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ অন্য রকম। অনেক লোকের সমাগম দেখে আমার খুবই ভালো লাগছে। বছর জুড়ে এমন হলে অনেক ভালো লাগবে।
তিনি আরো বলেন, দোহারে প্রায় ঈদেই আমি দর্শনীয় স্থান গুলো ঘুরি আর এই ঈদগুলো ছাড়াও বিশেষ দিনে নদী পথে দেখা যায় কিছু বখাটে ছেলেদের নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে উশৃংখল ভাবে নাচানাচি করে। এতে আমরা যারা মেয়েরা বা ভদ্র ফ্যামিলির লোক জন ঘুরতে আসি তারা বিব্রত হই। তাই আমাদের দোহার উপজেলা প্রশাসনের কাছে এবিষয়ে নজর দেওয়া দাবি জানাই।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বের আলম বলেন, দোহারে পদ্মার পাড়ে পর্যটন এলাকা ও রিসোর্ট গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটা করলে আনন্দ-বিনোদনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকাশ ঘটবে। এবিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হবে।