কক্সবাজার শহরের সিটি কলেজ এলাকার ‘কিশোর গ্যাং’য়ের নিয়ন্ত্রণ নিতেই কলেজছাত্র রিদুয়ান সিদ্দিকীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল অপর একটি গ্রুপ।
নিহত রিদুয়ান রিফাত গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছায়া তদন্তে উঠে এসেছে। চিহ্নিত করা হয়েছে হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বেশ কয়েকজন।
পুলিশের একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র মতে, কক্সবাজার শহরের সাব-মেরিন ক্যাবল, বিজিবি ক্যাম্প ও গরুর হালদা এলাকার নিয়ন্ত্রণ করে কিশোর গ্যাং লিডার আকিব, তামজিদ আহাত, ছোটন, প্রান্তিকদের গ্রুপ। আর মাঝখানে সিটি কলেজ এলাকা রিফাত ও রিদুয়ানের। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া ছিল আকিব গ্রুপ। যার বড় বাঁধা ছিল রিফাত, রিদুয়ান গ্রুপ।
সুত্র মতে, তাদের (রিদুয়ান-রিফাত) আটকানোর পরিকল্পনার সুযোগ আসে সোমবার। এদিন সকালে সিটি কলেজ এলাকায় রিফাত-রিদুয়ান গ্রুপের সদস্যরা আকিব গ্রুপের এক সদস্যকে মারধর করে। সেটির প্রতিশোধ নেয়ার অজুহাতে আকিব গ্রুপের সদস্যরা রিদুয়ানকে টার্গেট করে। সন্ধ্যার পর রিদুয়ানকে থামিয়ে ‘পায়ে ধরে ক্ষমা’ চাওয়ার জন্য বলে আকিবের নেতৃত্বে আসা তার গ্রুপের একাধিক সদস্য। ক্ষমা না চাওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে রিদুয়ানকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।
২৮ মার্চ সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কলেজছাত্র রিদুয়ান সিদ্দিকী। তিনি সাহিত্যিকা পল্লী এলাকার আবু বক্কও সিদ্দীকির ছেলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, দুইটি গ্রুপের আধিপত্য নিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। আমাদের প্রাথমিক তদন্তেও তা উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িত একাধিক আসামীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম। পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেয়া হলে মামলা নেয়া হবে।
কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, সোমবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। যেহেতু আসামীদের চিহ্নিত করা গেছে তাদের গ্রেফতারে আমরা কাজ করছি।