ঢাকাThursday , 5 November 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে বাগেরহাটে উৎসবের আমেজ

Link Copied!

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো বাগেরহাট সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে ঘিরে বাগেরহাটজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে এবং তাঁকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত জেলাবাসী।

#New_Classic_Event_Management

তবে এই সফর ঘিরে শুধু উৎসবের আমেজ নয়, নতুন করে আশার আলোও দেখছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা, বেহাল সড়ক যোগাযোগ, উন্নত চিকিৎসাসেবার সংকট, নদীভাঙন, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাবসহ নানা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


সেখানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ও অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল সাড়ে ১০টায় মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আসবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সড়কপথে মোংলা বন্দর থেকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে তিনি জিয়ারত করবেন। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশ্যে বাগেরহাট ত্যাগ করার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁকে একনজর দেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

উন্নয়ন প্রত্যাশায় স্থানীয়রা

বাগেরহাটের মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা কালাম শেখ বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে বসবাস করছি। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ভালো চিকিৎসাসেবা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের এলাকার মানুষের কষ্ট ও সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নের ব্যবস্থা করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

একই এলাকার বাসিন্দা বেলফার মোল্লা বলেন, ‘বাগেরহাটের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় উন্নয়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা খাতে আরও উন্নয়ন দরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, তিনি যেন বাগেরহাটের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন।’

সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রহমত সরদার বলেন, ‘বাগেরহাটের সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য অধিকাংশ সময় পার্শ্ববর্তী খুলনায় যেতে বাধ্য হন। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের এলাকার মানুষের এসব সমস্যা সমাধানে সুদৃষ্টি দেবেন বলে আশা করছি।’

যেসব উন্নয়ন চান জেলাবাসী

বাগেরহাটবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা দূর করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের অন্যতম দাবি, বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

এ ছাড়া জেলায় নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং উপকূলীয় মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, মোংলা বন্দর ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে ঘিরে বাগেরহাটের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং সরকারি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বাগেরহাট দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় জেলায় পরিণত হতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বাগেরহাটজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলাবাসীর প্রত্যাশা, তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যাগুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসবে এবং বাস্তব উন্নয়নের মাধ্যমে বাগেরহাটের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি