দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামের একটি স্কুলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
স্কুল ভবনটিতে নয়টি শক্তিশালী বোমা হামলার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৩০ জনের বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিমান হামলা চালানো হয়। দুই দিনের জার্মানি সফর শেষে দেশে ফিরে উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে হতাহতের এ তথ্য জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার এমন হামলার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে খুব সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অথচ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অতীতের যুদ্ধাপরাধের মতো এ ঘটনাও আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো প্রতিক্রিয়ার দাবি রাখে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘অশুভ শক্তিকে সময়মতো উপযুক্ত জবাব দেওয়া না হলে তা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।’
এদিকে হামলার পর থেকে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন জানিয়েছেন, হামলার শিকার ভবনটি বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বোমার আঘাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে গত বছর নির্মিত ভবনটির শক্তিশালী কংক্রিটের বেসমেন্ট ধসে পড়ে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়।
দুই দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চললেও ধ্বংসস্তূপের জটিল অবস্থার কারণে হতাহতদের শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, বেসামরিক মানুষ যখন সেখানে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হয়েছিলেন, ঠিক তখনই হামলাটি চালানো হয়। ত্রাণ বিতরণের স্থান ও সময় আগে থেকেই ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, রুশ বাহিনী জেনেশুনে হামলা চালিয়েছে অথবা হামলার আগে ন্যূনতম সতর্কতাও অবলম্বন করেনি। তাঁর মতে, উভয় পরিস্থিতিই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।
এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
