দেশি ফলের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকার নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী “ফল উৎসব-২০২৬”।
“দেশি ফলে ভরপুর, শিশুর জীবন হোক মধুর” স্লোগানকে সামনে রেখে ১৪ জুন রবিবার সকালে নবাবগঞ্জ পল্লবী কচি-কাঁচার মেলার সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবে বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সেজে ওঠে রঙ, রস ও গন্ধে ভরপুর এক আনন্দময় পরিবেশে।
উৎসবে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাদাপুরের শিশুবন্ধু মোহাম্মদ রুবেল তালুকদার। শিশুদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজকের এই আয়োজন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিয়মিত মৌসুমি ফল খাওয়াতে হবে, তবে কখনোই জোর করে নয়। আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”
অতিথি শুভাশিস গোস্বামী শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত মতবিনিময় করেন। তিনি বিভিন্ন ফলের নাম জানতে চাইলে শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সঠিক উত্তর দিয়ে তাদের উৎসাহ ও জ্ঞান প্রদর্শন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উন্নতি সরকার। তিনি উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে মোহাম্মদ রুবেল তালুকদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবু আহমেদ শিশুদের ফল পরিচিতি কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক— মিনারা বেগম, ফাহমিদা আক্তার, লাবলু আহমেদ, অমলেশ সরকার, সুদীপ্ত চক্রবর্তী ও শ্রাবণী রানী ধর ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পুরো আয়োজনকে সফল করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
কোমলমতি শিশুদের দেশি ফলের নাম, পরিচয়, পুষ্টিগুণ ও উৎপাদন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং “ফল খাই, সুস্থ থাকি” বার্তাটি তাদের মনে গেঁথে দেওয়া। পাশাপাশি বইয়ের পাতার বাইরে বাস্তব জীবনে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, কলা, পেঁপে ও আনারসসহ বিভিন্ন ফল চিনতে শেখানো।
উৎসবে একটি আকর্ষণীয় ফল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে গ্রামবাংলার ১০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি ফল কেটে সুন্দরভাবে সাজানো হয়। শিশু ও তাদের অভিভাবকরা নিজ হাতে ফল সাজিয়ে অংশ নেন এবং “আমার প্রিয় ফল” বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া গান, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শিশুদের জন্য “ফল চেনো” ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা। উৎসব শেষে উপস্থিত সকলকে দেশি ফল পরিবেশন করা হয়।
পুরো প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ রঙিন ব্যানার ও ফলের সাজে সজ্জিত করা হয়। শিশুদের হাসি আর নানা ফলের মিষ্টি সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
আয়োজকরা জানান, এই উৎসব কেবল আনন্দ আয়োজন নয়; বরং শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশি ফলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।