ঢাকাThursday , 21 May 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

সুন্দরবনে দস্যু দমনে কঠোর বার্তা আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন সুযোগ

Link Copied!

রকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আওতায় সুন্দরবনে সক্রিয় সকল ডাকাত ও বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। তবে যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

#New_Classic_Event_Management

বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান, কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ প্রেক্ষিতে গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাতজন ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুটি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাতরা হলেন— সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার এবং মাহফুজ মল্লিক রামপাল উপজেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, চলমান সফল অভিযানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও অপরাধ দমন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অপপ্রচারই কোস্ট গার্ডের অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম (সি), পিসিজিএম, পিএসসি, বিএন বলেন, “সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে যারা অপরাধ চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জনসাধারণের সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি