রাহিমা বেগম কথা বলতে পারেন না, শুনতেও পান না। কিন্তু তার চোখের ভাষা আর মনের অনুভূতি তো আছে। দুঃখজনকভাবে, সেই নীরবতার সুযোগ নিয়েই তার সবচেয়ে কাছের মানুষ—নিজের ভাই ও স্বামী—তার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে।
ঘটনাটি ৯ ফেব্রুয়ারির। সেদিন সকালে রাহিমার দুই ভাই নুরুল ও সিরাজুল তাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করেন। রাহিমা ভেবেছিলেন, ভাইয়েরা তাকে সময় দিতে চায়। বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় তার হাতে ছিল একটি মিষ্টির প্যাকেট।
বাড়িতে ফিরে সন্তানরা ইশারায় জানতে চাইলে তিনি খুশি মনে বোঝান—তিনি কোথাও সই করে এসেছেন। সেই হাসির পেছনে যে বড় ক্ষতি লুকিয়ে ছিল, তা তিনি বুঝতেই পারেননি। ওই সইয়ের মাধ্যমে তার নিজের থাকার জায়গাটুকুই অন্যের দখলে চলে গেছে।
রাহিমার ছেলে ফয়সাল রনি বলেন, তার মা কিছুই জানতেন না। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবা, মামারা এবং খালার সহযোগিতায় তার মায়ের ৩.২৫ শতাংশ জমি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার মা না বুঝেই সবকিছু হারিয়েছেন।
অন্যদিকে, ভাই নুরুল ইসলাম দাবি করছেন—সব কিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। কিন্তু রাহিমার ইশারা ও কান্না অন্য কথা বলছে। তিনি বুঝতে পারেননি যে সই করার ফলে তার জমি চলে যাবে।
এই ঘটনায় আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত এমন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জমি হস্তান্তরে কঠোর নিয়ম থাকার কথা। কিন্তু এখানে বলা হচ্ছে, শুধু ‘প্রতিবন্ধী কার্ড’ থাকলেই দলিল করা সম্ভব। তাহলে একজন ব্যক্তি বিষয়টি বুঝেছেন কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার?
রাহিমার বোন রজিফা আক্তার জানিয়েছেন, জমির টাকা তার কাছে রাখা আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যার জমি, তার টাকা অন্যের কাছে কেন? কেন তার সন্তানদের কিছু জানানো হয়নি?
সরেজমিনে দেখা যায়, রাহিমা অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছেন। তিনি আইনের জটিলতা বোঝেন না, নিজের অধিকারও বলতে পারেন না। শুধু জানেন—তার বাবার দেওয়া ভিটে এখন আর তার নেই।
তার সন্তানরা প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েছেন। তারা চান, ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক এবং দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হোক।
এখন প্রশ্ন একটাই—রাহিমার নীরব কান্না কি কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছাবে, নাকি তিনি ন্যায্য বিচার না পেয়েই সব হারিয়ে বেঁচে থাকবেন?