নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার দোহার উপজেলায় মোঃ আনোয়ার নামে এক পুলিশের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভুগি কয়েকজন নারী। এ ঘটনায় রানু আক্তার (৩৫)নামে এক নারী ভুক্তভোগী নারীদের পক্ষে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ডায়ারকুম গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. বাচ্চু মিয়ার (৪৮) বাড়িতে আসামি গ্রেপ্তার করতে যান দোহার থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনসহ দোহার থানা পুলিশের একটি দল। গভীর রাত হওয়ায় পুলিশ দেখে ভয়ে ঐ ঘরে থাকা নারীরা ঘরের দরজা বন্ধ রাখেন। কিন্তু পুলিশ জানালা ভেঙ্গে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন ওই নারীদের সাথে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে ও গালিগালাজ করার এক পর্যায়ে ঘরে থাকা কয়েকজন নারীর গায়ে হাত তুলো ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
এ সময় ঘরে থাকা ঐ নারী সহ আশেপাশের লোকজন চিৎকার করলে তাদের কেও থানা হাজতের ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনা টি সম্পর্কে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেনের কাছে বিচার দাবি করা হয়েছেন সেদিন ঘরে থাকা নারীরা।
পুলিশের এ ধরনের আচরণ সকালে স্থানীয়দের মুখে ছড়িয়ে পড়লে তা নিন্দায় রুপ নেয়। এ ব্যাপারে প্রবাসী বাচ্চুর স্ত্রী রানু আক্তার বলেন, আমার ছোট ছেলে ও আমাকে জেলহাজতের ভয় দেখিয়ে সকালে থানায় যোগাযোগ করতে বলে পুলিশ। এটা পুলিশের কি ধরনের আচরণ?
বাচ্চুর বোন জীবনী আক্তার (৪০) বলেন, ঢাকা থেকে আমার বড় বোন বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। তিনি একজন হার্টের রোগী। পুলিশের এমন আচরণ দেখে তিনি অসুস্থ্ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলিম বলেন, সংবাদ পেয়ে রাতেই তিনি ওই বাড়িতে যান। পুলিশের সাথে থাকা গ্রাম পুলিশ জামাল ও শাহজামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনিও দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানান।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দোহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, বাচ্চু, এমারত ও সজিব এই তিন সহোদরের নামে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তবে তিনি অশোভন আচরনের ঘটনাটি অস্বীকার করেন।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।