নতুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ নেওয়া ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করলেও সংবিধান অনুযায়ী তিনি নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন। তার বিরুদ্ধে মাত্র একটি মামলা রয়েছে। যদি আদালত জামিন দেন এবং সরকার চায়, তিনি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবেন।
সংবিধান ও সংসদ কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের পর বিদায়ি সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াবেন। তাদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। প্রয়োজনে কারাগারে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুও প্যারোলে মুক্তি দিয়ে শপথ পড়াতে পারেন।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনও বিদায়ি স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি না থাকলে ডেপুটি স্পিকার বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি দায়িত্ব নেবেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদের ২(ক) দফা অনুসরণ করে সিইসিকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন।
শপথ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রথম অধিবেশনে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলীর গঠন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পন্ন হবে।
নির্বাচনের পর গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে বিদায়ি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াবেন। তা না হলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি তিন দিনের মধ্যে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ি স্পিকার পদত্যাগ করলেও নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনায় তার কোনো আইনি বাধা নেই।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হয়। এর পর শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক কারাগারে আটক থাকায় শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে চলছে তর্ক। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে বিকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শপথ অনুষ্ঠান সংবিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে অযথা বিতর্কের সুযোগ নেই।