২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালের এই দিনে নিভে যায় এক অনন্য প্রদীপ, যিনি বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছিলেন বিদ্রোহের দীপ্তি, মানবতার আলো আর শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। আজ আমরা স্মরণ করছি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে,। যার জীবন ও সাহিত্য আমাদের সমাজকে মুক্তি, সাম্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা জুগিয়েছে।
কবি নজরুল শুধু কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সম্পাদক, নাট্যকার, গায়ক, সংগীতকার ও চলচ্চিত্রশিল্পী। তার সম্পাদিত পত্রিকা নবযুগ, ধুমকেতু, লাঙল (পরবর্তীতে গণবাণী) বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক বিপ্লবী মাইলফলক। সেখানে তিনি নির্ভয়ে লিখেছিলেন স্বাধীনতার গান, সাম্যের কথা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মন্ত্র। ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই নজরুল ঘোষণা করেছিলেন .ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীয় অধীনে থাকবে না। এই উচ্চারণ ছিল নিপীড়িত মানুষের মুক্তির অগ্নিঘোষ।
কবিতা, গান, নাটক, চলচ্চিত্র—প্রতিটি মাধ্যমেই নজরুল ছিলেন সমান সফল। চলচ্চিত্র ধ্রুব (১৯৩৪) ও ধূপছায়া (১৯৩৬)-এ তিনি অভিনয় ও গান রচনা করেছেন। তার রচনায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে ন্যায়বিচারের দাবি, শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার।
তিনি ছিলেন প্রকৃত সাম্যের কবি। সমাজ, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিগত বিভেদ ভুলে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা। মুসলিম-হিন্দু, নারী-পুরুষ,সবাই তার কবিতায় পেয়েছে সমান স্থান। বিদ্রোহী কবি নজরুলের কণ্ঠশক্তি ছিল কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং মানুষের মুক্তি ও মানবতার জয়গান।
আজকের প্রজন্মের কাছে নজরুল কেবল ইতিহাস নন; তিনি জীবন্ত প্রেরণা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, জ্ঞানের আলোয় সমাজ পরিবর্তনের ডাক, সাম্যের স্বপ্ন.সবই তার সাহিত্য থেকে আজও আমাদের আহ্বান জানায়। ডিজিটাল যুগেও নজরুল আমাদের শেখান, শোষিতের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতার কাজ।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী কেবল স্মরণের নয়; এটি প্রতিজ্ঞার দিন। প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আমরা নজরুলের চেতনায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ব, সাম্যের সমাজ গড়ব এবং মানবতার জয়গান গাইব। তার অমর আহ্বান আজও আমাদের কানে বাজে উঠো, শোষিতের মুক্তির জন্য যুদ্ধে নামো।