ঢাকাTuesday , 19 August 2025
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

নবাবগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে নৌকা বাইচে দর্শকদের ভিড়ে কানায় কানায় পরিপূর্ণ

DN BANGLA
August 19, 2025 2:16 am
Link Copied!

মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর টিকারার টু-ডুপ, টু-ডুপ ছন্দ মাতিয়ে তুলেছিল নদীর দুই পাড়। দুই পাড়ে নোঙর করা নৌযান আর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো নারী-পুরুষ হৈহুল্লোড়ে উপভোগ করেছেন এ দৃশ্য। দর্শনার্থীরা যেন ফিরে পেয়েছেন বাংলার চিরায়ত রূপ।

#New_Classic_Event_Management

১৮ই আগস্ট সোমবার বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়নের সিংজোর এলাকার কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে এ আয়োজন হয়। এলাকাবাসীর উদ্যোগে দীর্ঘ বছর পর গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এত বছর পর আয়োজনে দর্শনার্থীদের আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।

দুপুরের কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে কালীগঙ্গার দুপারের রাস্তায় ভিড় জমে যায়। দুই পাড়জুড়ে বসে বিশাল গ্রাম্য মেলা। বিকেল গড়াতেই ভিড় আরও বাড়ে। নাগরদোলা, বাঁশির সুর আর হকারদের ডাক মুখর করে তোলে চারপাশ। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পুরো এলাকা যেন উৎসবের আমেজে ভেসে যায়।


নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের নৌকা অংশ নেয়। এতে সোনার বাংলা, জয় আলী, মোল্লা বাড়ি, কালাম সিকদার, বলধরার প্রবাসী, মামা-ভাগিনা, তুফান-২, খান বাড়ি, শেখ বাড়ি, লিটন-১, লিটন-২, সোনার তৈরী, দাদা-নাতি, শিকদার বাড়ি, শেখ আব্দুল খালেক, খাজা বাবা, মোহন মন্ডলসহ একে একে একাধিক নৌকা অংশ নেয়। লটারির মাধ্যমে প্রতিযোগীদের নাম ঠিক করা হয়। মাঝি-মাল্লারা নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা দাপিয়ে বেড়ান।

নদীর দুই ধারে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরেরা ভিড় করেন।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থী শামীম হোসেন বলেন, “একে অপরের সঙ্গে বেশ কয়েকটি টান দিয়েছে। আমরা ভীষণ আনন্দ পেয়েছি। এ ঐতিহ্য আজীবন টিকে থাকুক।”

দর্শনার্থী আলীনূর বলেন, “এখন তো আগের দিনের মতো নেই। নদী-খালে বাইচ মিলে না। মানুষ এখনো এটাকে গ্রামীণ বিনোদন মনে করে। তাই পরিবার নিয়ে দেখতে এসেছি।”

সিরাজদিখান থেকে বাইচ দেখতে আসা কাকলী মন্ডল বলেন, “বাইচ দেখা শেষে ছেলের জন্য খেলনা কিনেছি। আগে বর্ষায় গাঙ্গজুড়ে পালের নৌকা যেতো, সাজানো বাইচের নৌকা দেখা যেতো। এখন বাইচের খবর পেলেই মন চায় দেখতে আসতে। তাই এত দূর থেকে এসেছি।”

আয়োজক কমিটির পক্ষে আওলাদ হোসেন (তারেক) বলেন, “সার্বিক নিরাপত্তা রেখে মানুষকে বিনোদন দেয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি করে ফ্রিজ এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি নৌকার জন্য একটি করে টেলিভিশন দেয়া হয়েছে।”

নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, “হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ এখনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই টিকে আছে। সরকার প্রতিবছর ফুটবল-ক্রিকেটের আয়োজন করলেও নৌকা বাইচ করে না। আমাদের দাবি, প্রতি জেলা ও উপজেলাভিত্তিক সরকারি উদ্যোগে নৌকা বাইচ আয়োজন করা হোক।”

প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।

তিনি বলেন, “গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য এ নৌকা বাইচকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এটা বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ যেন এটাকে বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করে, সে চেতনা জাগ্রত করতে হবে। তাহলেই কোনো অপশক্তি এদেশের সংস্কৃতিকে বিকৃত করতে পারবে না।”

মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ওয়াহিদ মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আল মামুন, শোল্লা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, বিএনপি নেতা রাসেল আহমেদ ও গাজী শাহ আলম প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি