ঢাকা উত্তর যুব মহিলা লীগের প্রাক্তন সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রাক্তন সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২২ জুন) গভীর রাতে নবাবগঞ্জের আওনা এলাকার তার নিজের বাড়ি থেকে তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ৫ আগস্টের পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর সহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনা গ্রামের হাবিবুর রহমান ভাইয়ার মেয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর সাবেক সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিন নবাবগঞ্জে তার বাবার বাড়িতে পালিয়ে যান। এই খবর পেয়ে ঢাকা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল রবিবার গভীর রাতে নবাবগঞ্জের আওনা এলাকায় অভিযান চালায়। পরে, শোল্লার আওনা গ্রামের তার নিজের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, তুহিনকে গ্রেপ্তার করতে এলে সে ফেসবুক লাইভে গিয়ে চিৎকার করে বলে যে পুলিশ তার বাড়ি ঘেরাও করছে এবং ভাঙচুর করছে। পরে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানান, তুহিন এমপি থাকাকালীন কেবল ঢাকার মিরপুরেই নয়, নবাবগঞ্জেও তার ব্যাপক প্রভাব ছিল। তুহিনের এক বোন হালিমা আক্তার লাবণ্য ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে ঢাকায় থাকাকালীন তিনি তৎকালীন ঢাকা আসনের এমপি সালমান এফ রহমানের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এবং জেলায় এই পদ পান। আরেক বোন মামনি ভূঁইয়া ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
সেই সময় তারা তদবিরসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে বিতর্কিত যুবলীগ নেত্রী পাপিয়ার ঘটনায়ও এই সাবেক এমপি তুহিন জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে ডিবি পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, “সাবেক এমপি তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।”