খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি মোঃ জসিমকে (৫০) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬। এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৭-এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন সলিমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জসিম খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা থানাধীন হাজী তমুজউদ্দীন সড়ক বাইলেন এলাকার হোসেন আলীর ছেলে।
এসআরবি ফোর্সেস সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যেভাবে সংঘটিত হয়েছিল জাহাঙ্গীর হত্যা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের দিকে জসিম নিহত জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। পেশায় তিনি ছিলেন রিকশাচালক। জাহাঙ্গীরের বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
২০০৯ সালের মে মাসের শুরুর দিকে রবিউলের দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে জসিম মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে রবিউলের কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোন কিংবা টাকা কোনোটিই ফেরত না দেওয়ায় স্থানীয় কয়েকজনের কাছে অভিযোগ করেন রবিউল।
এরপর ২০০৯ সালের ১৯ মে সকালে স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে জসিম ও রবিউলকে নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে জসিমের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগের তথ্য উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থিত সালিশকারীরা তাঁকে মোবাইল ফোন ও ৮০০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই সালিশ বৈঠকে নিহত জাহাঙ্গীরও উপস্থিত ছিলেন।
সালিশের পর জাহাঙ্গীর জসিমকে ওই মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলে জাহাঙ্গীর বাড়ির সামনে রবিউলের বন্ধ দোকানের একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন। এ সময় জসিম পেছন দিক থেকে ছুরি দিয়ে জাহাঙ্গীরের ঘাড়ের বাঁ পাশে আঘাত করে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে জসিমকে আসামি করে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত জসিমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রেফতারের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জসিমকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতারকে এসআরবি ফোর্সেসের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
