কালীপুজোকে সামনে রেখে কলকাতার ধর্মতলার শহীদ মিনারের সামনে শুরু হলো বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা বাজি বাজার।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই বাজি বাজার চলবে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। সরকারি সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা ও নির্দেশনায় এবারের বাজি বাজারের সূচনা হয়েছে।
বাজি বাজারের নিরাপত্তা ও নিয়মকানুন খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে আসেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং দমকল বিভাগের আধিকারিকরা। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাজারে কোনওভাবেই শব্দবাজি বিক্রি করা যাবে না। শুধুমাত্র অনুমোদিত গ্রিন বাজি বিক্রির অনুমতি রয়েছে।
কোনও বিক্রেতা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অন্য ধরনের বাজি বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট স্টল বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। গোটা বাজারজুড়েই রয়েছে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এবারে মোট ৪০টি স্টল নিয়ে বসেছে এই বাজি বাজার।
কালীপুজো মানেই আলোর উৎসবের পাশাপাশি রঙিন আতশবাজির আনন্দ। ছোট থেকে বড়, সকলেই এই উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন।
সেই উপলক্ষে বাজি বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে সাজিয়ে তোলা হয়েছে রঙিন আলো, মোমবাতি, প্রদীপসহ নানা ধরনের পুজোর সামগ্রী। কালীপুজোর রাতে প্রতিটি বাড়ি সেজে উঠবে আলোর মালায়, জ্বলে উঠবে মোমবাতি ও প্রদীপের সারি।
বাজি কেনাকাটা করতে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছেন ধর্মতলার এই বাজারে। শুধু বাজি কেনাকাটাই নয়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাজার ঘুরে দেখতেও ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় গ্রিন বাজির সম্ভার দেখা গেলেও ক্রেতাদের একাংশ অন্যান্য বাজির খোঁজ করলে বিক্রেতারা জানিয়ে দিচ্ছেন, সরকারি নিয়ম মেনে তাঁরা শুধুমাত্র গ্রিন বাজিই বিক্রি করছেন।
বিক্রেতাদের দাবি, কলকাতার অন্যান্য বাজারের তুলনায় ধর্মতলার বাজি বাজারে তুলনামূলকভাবে কম দামে বাজি পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্রেতাদের বক্তব্য, এখানকার দাম কিছুটা কম হলেও প্রতি বছর বাজির দাম ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শুধু বাজি নয়, আলো, মোমবাতি ও প্রদীপের দামও বেড়েছে।
ফলে পরিবারের ছোটদের জন্য উৎসবের কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেককেই আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে কালীপুজোর আগে ধর্মতলার শহীদ মিনার চত্বরে জমে উঠেছে বাজি বাজার।
একদিকে উৎসবের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড়, অন্যদিকে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে গ্রিন বাজি বিক্রি এবং প্রশাসনের নজরদারি—সব মিলিয়ে এবারের কলকাতা বাজি বাজারে রয়েছে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা।
