লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন বাজারস্থ মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি, সহঃ সভাপতি, সম্পাদক ও ক্যাশিয়ার এর বিরুদ্ধে সমিতির সদস্যদের সঞ্চয়ের ৩০ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে ।
এ ব্যাপারে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন সমিতির এক সদস্য। দায়িত্ব এড়াতে সমিতির গভর্ণিং বডির সদস্যদের একে-অপরকে দোষারোপ ।
অভিযোগে জানা যায়, মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ গত ২০১২ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত এই সমিতির রেজি নং-৫৮ । বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখা পাচ হাজার দুইশত ।
২০২০ সালের জুন পর্যন্ত তৎকালীন মাঠ পর্যায়ের বিতরণকৃত লোনের পরিমান ছিল প্রায় কোটি টাকার সমান হলেও এই প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনের পরিমান ছিল প্রায় তের কোটি টাকা। মুলধনের পুরো টাকাটাই সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে গ্রহনকৃত ।
সরেজমিন তদন্তকালে দেখা যায, সমিতির সদস্য মোছাঃ মর্জিনা বেগম, মোছাঃ দুলালি বেগম. মোঃ ফজলার রহমান, আব্দুল হান্নান, স্বপ্না বেগম, মুহসীন আলী, শাপলা বেগম এবং সাইদুুল ইসলাম ও মহুবর রহমানসহ মোট ১১জন সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যায় তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে টাকা জমা রাখত । তাদের সকলের জমাকৃত টাকার পরিমান ছিল ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪শত ত্রিশ।
অভিযোগকারী ১১ সদস্যদের পক্ষে মোছাঃ শাপলা বেগম বলেন, আমি মাসিক পাচশত টাকা জমা রাখতাম । আমার কোড নং-২২৬৬ আমি ৩০ মার্চ ২০১৭ইং সদস্য পদ লাভ করে মাসিক পাচশত টাকা হারে ৩০ জুলাই ২০২০ইং পর্যন্ত টাকা জমা রাখি যার পরিমান আঠার শত টাকা ।
সদস্য মহুবর রহমান কোড নং-৬৫১ তার জমাকৃত টাকার পরিমান ছিল এক লাখ ছয়শত টাকা। এভাবেই, ফজলার রহমান কোড নং-১৯০৪ জমার পরিমান ৩,৫৫০০টাকা,স্বপ্না বেগম কোড নং-,১,৯০৪ জমার পরিমান ৩১,১২০টাকা, দুলালি বেগম কোড নং-২০৩ জমার পরিমান ৩৫৪৬০টাকা, মোঃ নুর হক কোড নং-২৯৯৫ জমার পরিমান: ৭১,৩০০টাকা, মর্জিনা বেগম কোড নং- ৩০২৬ জমার পরিমান: ২৪,৪৪০ টাকা ,হান্নান মিয়া কোড নং-১,৫৭২, জমার পরিমান :৪,৪১০টাকা ,সাইদুল ইসলাম কোড নং-৩১৫৪ জমার পরিমান; ৩,০০০টাকাসহ মোট ১১ সদস্যের জমাকৃত টাকার পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় ৪,৩৫,৪৩০ টাকা ।
যখন সদস্যরা অভিযুক্ত সভাপতি-সম্পাদক-সহ: সভাপতি-ক্যাশিয়ারের নিকট তাদের জমাকৃত টাকা ফিরত চাইলে তারা টাকা ফিরত না দিয়ে একে অপরের উপর দোষারোপ করতে থাকেন ।
সমিতির অধিকাংশ সদস্যরা নিতান্তই খেটে খাওয়া অসহায় গরীব মানুষ। এদের কেউ ডিম বিক্রি করে এবং মুদি দোকান করে তাদের কষ্টার্জিত টাকা ভবিষ্যতে মুনাফা লাভের আশায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে সমিতিতে সঞ্চয় জমা রেখেছিল। এই টাকা সমিতির সভাপতি-সহঃ সভাপতি-সম্পাদক-ক্যাশিয়ারসহ যারা দ্বায়িত্বে ছিলেন তারা কৌশলে তাদের টাকা আত্মসাত করবার অপচেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন মর্মে অভিযোগে জানা যায়। তারা বলেন, আমরা গরীব মানুষ আমাদের টাকা ফেরত দেবার ব্যবস্থা করে দেন।
অর্থ আত্মসাত এর ব্যাপারে সমিতির সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সভাপতি ছিলাম ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত । তাও আবার নামে মাত্র। সমিতিতে কে কখন কাকে কিভাবে টাকা পয়সা লোন দিয়েছেন আমি কিছুই জানিনা । কিভাবে সঞ্চয় তারা আদায় করেছেন তাও জানিনা । তবে এতটুকু বলতে পারবো আমি দায়িত্বে থাকাকালীর অবস্থায় সমিতির চার বারে লাভ হয়েছিল তিন লাখ ৩৭ হাজার টাকা। তাছাড়া আমি নিজেও এ সমিতির সদস্য ছিলাম।
আমার নিজ নামীয় সাপ্তাহিক জমার পরিমান ছিল প্রায় ৭২০০০টাকা । তাছাড়া সভাপতি আরও বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে কাশিয়ার- সম্পাদক-সহ:সভাপতি নামে বেনামে প্রায় চার লাখ টাকা সরিযে নেয় । কোন কোন ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয় ৫ লাখ টাকায় পরিশোধ করেছে।
সমিতির সম্পাদক আঃ হক বলেন,অত্র প্রতিষ্ঠানের মোট সদস্য সংখ্যা ৫২০০জন,জমাকৃত টাকার পরিমান দাড়িয়েছিল প্রায ১৩ কোটি টাকা যা সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদে জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা । গত ২০১২ সালের ১২ মার্চ প্রতিষ্টিত হয়ে ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২০ইং সাল পর্যন্ত সমিতির কার্যত্রম অব্যাহত ছিল । আমার দায়িত্ব নেবার পূর্বে পার্টনারশীপ ছিল ৬জন। তিন জন চলে যাওয়ার পর এবং নতুন একজন (জিয়াউর) যোগ দিলে সমিতির দায়িত্বশীল বডিতে আমরা চারজন দায়িত্ব গ্রহন করি। পূর্বের তিনজন চলে যাওয়ার সময় তাদের লাভ্যাংশের পাচ লাখ একষট্টি হাজার টাকা নিয়ে চলে যায় ।
আমি দায়িত্ব গ্রহনকালে মূলধনের পরিমান ছিল (৫০-৬০) লাখ টাকা আপনারা কত বেতন নিতেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সভাপতি, সহঃ সভাপতি আট হাজার টাকা, সম্পাদক-ক্যাশিয়ার দশ হাজার টাকা মাসিক হারে বেতন নেয়াহতো । আমাদের দ্বন্দের মূল কারণ সভাপতি এবং ক্যাশিয়ার । কোন মিটিং ডাকলে সভাপতি-সম্পাদক সে মিটিং এ উপস্থিত থাকতেন না। অভ্যন্তরীন কোন্দল যখন বেশী মাত্রায় দেখা দেয় সে সুযোগে সভাপতি নিজ ক্ষমতাবলে এমদাদের দ্বারা ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান চিত্তবাবুর মাধ্যমে মাধ্যমে পূরো কমিটি পরিবর্তন করবার অপচেষ্টা করেন ।
কোষাধ্যক্ষ এককভাবে (২০১৮-২০২০) মোট ২-৩ সাল পর্যন্ত একাই অফিস পরিচালনা করেন । সমিতির সমস্ত টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে একাই হস্তগত করেন ।আমার যানামতে সে সময় কোষাধক্ষের হাতে টাকা ছিল সাত লাখ। সে সময় লেনদেন কার্যক্রমকোষাধ্যক্ষ একাই পরিচালনা করেন । রজুলেশন বই ও কর্মীর অংগিক্ার পত্র সহ অনেক কাগজপত্র নিজেইকোষাধ্যক্ষ সড়িয়ে রাখেন । আমি, গত জুন ২০২০ইং এ বাধ্য হয়ে মাঠ কর্মী ফখরুল এবং আ: খালেক এর মাধ্যমে এসমস্ত ঘটনা ইউএনও মহোদ্বয় আদিতমারীকে জানাই ।
ইউএনও মহোদ্বয় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে তিনি সবাইকে মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে মিটিং এর মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে সদস্যদের টাকা দু-তৃতীয়াংশ ফিরত দানের ব্যবস্থা করেন । সেসময় আমরা চারজন (১৫-০২-২১ইং এবং ১২-০৩-২০২১) ইং দুই তারিখে ৪৪ লাখ একানব্বই হাজার তিন শত পচানব্বই টাকা পরিশোধ করলেও অনেক সদস্যবাকী থেকে যায়।