ঢাকাSaturday , 24 October 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রাসেল মোল্লা

Link Copied!

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার সন্তান মো. রাসেল মোল্লা। গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দলটির পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

#New_Classic_Event_Management

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রাসেল মোল্লা ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা বিস্তৃত হয়েছে। ছাত্র অধিকার পরিষদ, গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক কমিটিতে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব পেলেন।

মো. রাসেল মোল্লার বাড়ি ঢাকার দোহার পৌরসভার পূর্ব লটাখোলা গ্রামে। ১৯৯৫ সালে এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা আবুল হাসেম মোল্লা এবং মা নুরজাহান বেগম। রাসেল মোল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।


ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন রাসেল মোল্লা। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি সম্মুখসারির সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক হয়রানির শিকার হন। এ সময় তাঁকে তিনবার হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনসহ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। ২০২২ সালে শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণসভা এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেন রাসেল মোল্লা। এসব আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার কথাও তাঁর দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে রাসেল মোল্লা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা, দোহার-নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় আন্দোলন সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। ওই সময় দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও সংগঠক হিসেবে কাজ করেন বলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে।

রাসেল মোল্লার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ঘটনায় তৎকালীন সরকারের আমলে দায়ের করা তিনটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাসেল মোল্লা জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত হন। সেখানে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুব উন্নয়ন সেল, কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া ঢাকা জেলা ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে যুক্ত হন রাসেল মোল্লা। দলটিতে তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন সেলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা জেলার সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মো. রাসেল মোল্লা বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় প্রথমেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির সংগ্রামী আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বিপ্লবী সদস্যসচিব আখতার হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তা আমানত হিসেবে গ্রহণ করছি। আমি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।”

তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জের মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাসেল মোল্লা বলেন, “দোহার ও নবাবগঞ্জবাসী পাশে আছেন বলেই আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। বাকি জীবন আমি দোহার ও নবাবগঞ্জবাসীর সেবক হিসেবে পাশে থাকতে চাই।”

নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

দীর্ঘ ছাত্ররাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমবায় ও পল্লীউন্নয়নের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করাই এখন রাসেল মোল্লার নতুন দায়িত্বের অন্যতম ক্ষেত্র। তাঁর এ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তা সংশ্লিষ্ট মহলের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি