ঢাকাTuesday , 28 April 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী

সংগ্রাম ও আদর্শের এক অনন্য ইতিহাস – মাওলানা ভাসানী

Link Copied!

বাংলার আকাশ-বাতাস, নদী-মাটি আর প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যে নামটি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তিনি হলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তিনি ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের দৃঢ় কণ্ঠস্বর। আজও তার জীবন ও আদর্শ গণমানুষের আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

#New_Classic_Event_Management

মাওলানা ভাসানীর জন্ম ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে। পিতা হাজী শরাফত আলী খান এবং মাতা মোসাম্মৎ বেগম। শৈশবেই তিনি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন; মাত্র ছয় বছর বয়সে পিতাকে এবং বারো বছর বয়সে মাতাকে হারিয়ে তিনি এতিম হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়।

প্রাথমিক পড়াশোনার পর তিনি ভারতের দেওবন্দের দারুল উলুমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে মাওলানা মাহমুদুল হাসান-এর সংস্পর্শে এসে তার রাজনৈতিক ও দেশপ্রেমিক চেতনার বিকাশ ঘটে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন।


আসামে কৃষক আন্দোলনের সময় ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে (ভাসান চর) অবস্থান ও আন্দোলন পরিচালনার কারণে তিনি ‘ভাসানী’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক উপাধি নয়, বরং জনসাধারণের দেওয়া পরিচিতি।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আসামে ‘লাইন প্রথা’র বিরুদ্ধে তার নেতৃত্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে তার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ, যার তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি তার বিখ্যাত “আসসালামু আলাইকুম” উচ্চারণ রাজনৈতিক বিচ্ছেদের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে অবস্থান করে প্রবাসী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অবদানগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব। পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম অমর হয়ে আছে।

সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত মাওলানা ভাসানী ছিলেন লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরিহিত এক সাধারণ মানুষের মতো নেতা, যিনি জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন গভীরভাবে। এই ঘনিষ্ঠতা ও সংগ্রামী চেতনার কারণেই তিনি “মজলুম জননেতা” হিসেবে পরিচিতি পান।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে সমাহিত করা হয়। তার মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মাওলানা ভাসানী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন এক আদর্শ, এক প্রতিবাদের প্রতীক। তার জীবন ও দর্শন আজও সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার আন্দোলনে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি