ইরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেল-গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে শত্রুপক্ষীয় হামলার জবাবে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে ৯৯তম ধাপে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইলি সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করা হয়।
আইআরজিসি আরও জানায়, অভিযানের প্রথম ধাপে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মালিকানাধীন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।
এছাড়া খোরফাক্কান বন্দর দিয়ে ইসরাইলের উদ্দেশ্যে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি কন্টেইনার জাহাজেও ‘নির্ভুল হামলা’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইরান একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতাকারীদের জন্য স্পষ্ট সতর্কতা হিসেবে দেখছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, ইরান কখনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আগে হামলা চালায়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করবে না। তবে ইরানের অবকাঠামোতে কোনো হামলা হলে তার জবাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের ‘হঠকারী সিদ্ধান্তের’ কারণে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সম্পদ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমাও শেষ হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সামরিক অভিযান ও নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে সংকট নিরসনে পাকিস্তান এখনো কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র : আইআরজিসি