ইসরাইলের সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী রাজনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের চাপে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) গুরুতর সংকটে পড়েছে। তাদের মতে, সৈন্যের ঘাটতি ও পরিষ্কার কৌশলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, আইডিএফকে তার সক্ষমতার সীমার বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আহত সেনাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। এর আগের দিন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামিরও নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
লাপিদ অভিযোগ করেন, সরকার যথেষ্ট পরিকল্পনা, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা ছাড়াই বাহিনীকে বিভিন্ন যুদ্ধে নিয়োজিত করছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জামির মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন যে সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন এক বিবৃতিতে জানান, বিভিন্ন সীমান্তে আরও যুদ্ধ সক্ষম সেনার প্রয়োজন। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে অতিরিক্ত বাহিনী দরকার। একইভাবে পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়াতেও সেনা চাহিদা বেড়েছে।
লাপিদ আরও বলেন, সংরক্ষিত সৈনিকরা ইতোমধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফায় দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাদেরকে ক্লান্ত ও দুর্বল করে ফেলেছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষে সব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়ের লোকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই সামরিক সেবা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন।
লাপিদ বলেন, যারা ড্রাফট এড়িয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, আর প্রয়োজন হলে হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইসরাইলে সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও ধর্মীয় অধ্যয়নে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য শুরু থেকেই কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।