যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় সীমান্ত কর্মকর্তারা ব্রোঞ্জ যুগের প্রায় চার হাজার বছরের পুরোনো বেশ কিছু তলোয়ার ও তীরের ফলা আটক করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এসব মূল্যবান নিদর্শন ইরান থেকে অবৈধভাবে লুট করে আনা হয়েছে।
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ৩৬টি তামার সংকর ধাতুর ছোট তলোয়ার এবং ৫০টি তীরের ফলা জব্দ করে। কর্মকর্তাদের মতে, গত ১৬ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একটি এক্সপ্রেস ডেলিভারি ফ্লাইটে চালানটি ফিলাডেলফিয়ায় পৌঁছায়। এর চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিল।
ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে এই প্রাচীন অস্ত্রগুলো পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার আগেই এই চালান পাঠানো হয়।
চালানটির কাগজপত্রে উল্লেখ ছিল যে এতে ‘ধাতব সাজসজ্জার সামগ্রী’ রয়েছে। কিন্তু এক্স-রে পরীক্ষার সময় কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়, কারণ সেখানে তলোয়ারের মতো আকৃতি দেখা যায়। পরে প্যাকেট খুলে প্রাচীন অস্ত্রের স্তূপ পাওয়া গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাচারের সন্দেহে চালানটি তদন্তের জন্য আটক করা হয়।
তদন্তে সহায়তার জন্য নর্থ টার্গেটিং সেন্টারের অ্যান্টিকুইটি ইউনিটের বিশেষজ্ঞ এবং ফিলাডেলফিয়ার এক প্রত্নতাত্ত্বিককে যুক্ত করা হয়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই বিশেষজ্ঞ জানান, অস্ত্রগুলো খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের, অর্থাৎ আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের সময়কার। এগুলো ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগরের কাছের তালিশ পর্বত অঞ্চল থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের সন্দেহ, এগুলো প্রাচীন কবরস্থান খুঁড়ে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
ফিলাডেলফিয়ার সিবিপির ভারপ্রাপ্ত এরিয়া পোর্ট ডিরেক্টর এলিয়ট এন অর্টিজ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-কে বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের হাত থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে এসব নিদর্শন যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা শুধু আমদানি নীতির লঙ্ঘন নয়, বরং বিশ্ব সাংস্কৃতিক ইতিহাস সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
জব্দ করা প্রত্নসম্পদগুলো বর্তমানে সিবিপির হেফাজতে রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এগুলো ইরানে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।