দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, আদর্শিক সংকট ও ইসলামী রাজনীতিতে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের ধারা আরও জোরালো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ইউনিয়ন সেক্রেটারি মোঃ কামাল মির্জার নেতৃত্বে ওয়ার্ড পর্যায়ের আরও ২০ জন নেতাকর্মী দলীয় পদ ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় বেলকুচি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আরিফুল ইসলাম সোহেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসলামী রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র সংগঠন, যারা কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগদান প্রমাণ করে—দেশের সচেতন ইসলামপ্রেমীরা সঠিক নেতৃত্বের খোঁজে একত্রিত হচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “দুঃশাসন, দুর্নীতি ও ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামীকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।”
নবযোগদানকারী মোঃ কামাল মির্জা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“দীর্ঘদিন সংগঠনের দায়িত্বে থাকার পর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছি—ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামীই সবচেয়ে সুসংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আদর্শিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তাই ব্যক্তিগত বিবেচনা ও দ্বীনি দায়িত্ববোধ থেকেই আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি।”
উল্লেখ্য, মোঃ কামাল মির্জা বেলকুচি সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ছোট বেড়াখারুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মোঃ মাজম মির্জার ছেলে।
উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে নব-যোগদানকারী নেতৃবৃন্দকে জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ শেষে ফুলের মালা পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের ধারাবাহিকভাবে জামায়াতে যোগদান আগামী দিনে ইসলামী রাজনীতির মাঠে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।